বরগুনার তালতলীতে ছয় বছর বয়সী নাহিল আক্তারকে নেশাগ্রস্ত চাচা হাবিব ওরফে হাবিল খান পিটিয়ে হত্যা করেছেন। ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ইদুরপাড়া গ্রামে। ঘটনার পরই হাবিবকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। নিহত শিশুর বাবা মো. দুলাল খান পর রাতে তালতলী থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, হাবিব ও দুলাল একই বাড়িতে থাকেন এবং হাবিব প্রায়শই নেশার প্রভাবে পরিবারের সদস্যদের মারধর করতেন। মঙ্গলবার দুপুরে শিশু নাহিল বাড়ির সামনে মুদি দোকান থেকে রুটি কিনতে গেলে হঠাৎ পেছন থেকে হাবিব লাঠি দিয়ে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে।
শিশুটি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পরিবার দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু হাসপাতালে যাওয়ার পথে নাহিল মারা যায়। স্থানীয়রা হাবিবকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।
স্থানীয়দের দাবি, ২০১৫ সালে হাবিব একইভাবে দুলাল খানের প্রথম স্ত্রী তানিয়া বেগমকে গলা কেটে হত্যা করেছিলেন। ওই ঘটনায় শিশু আইনে তিনি ৯ বছরের সাজা ভোগ করেন এবং ২০২৪ সালের শুরুর দিকে জামিনে মুক্তি পান। জামিনে মুক্তির দেড় বছরের মাথায় এবার তিনি দুলালের দ্বিতীয় স্ত্রীর কন্যা নাহিলকে হত্যা করলেন।
দুলাল খান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ও আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে। ২০১৫ সালে আমার প্রথম স্ত্রীকে হত্যা করেছিল। এখন আমার শিশু কন্যাকেও হত্যা করেছে। আমার মেয়ের কী অপরাধ ছিল? আমি চাই এই হত্যার বিচারের।”
স্থানীয় ইউপি সদস্যরা জানান, হাবিব ঘটনার পর আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলেও পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. রকিবুল ইসলাম জানান, শিশুর মাথা এবং বাঁ হাতের কনুইতে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে দ্রুত বরিশাল হাসপাতালে পাঠানো হলেও পথে মৃত্যু ঘটে।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজালাল জানান, হাবিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।