টি–টোয়েন্টি সিরিজে আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের পর ওয়ানডে সিরিজে ছন্দ হারাল বাংলাদেশ। আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৫ উইকেটে হেরেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। ফলে তিন ম্যাচ সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল আফগানিস্তান।
টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু ইনিংসের শুরু থেকেই ব্যাটারদের ব্যর্থতায় চাপে পড়ে টাইগাররা। ৫৩ রানের মধ্যেই ফিরেছেন প্রথম তিন ব্যাটার—সাইফ হাসান ২৬, তানজিদ হাসান ১০ এবং নাজমুল হোসেন শান্ত মাত্র ২ রানে আউট হন।
এরপর চতুর্থ উইকেটে লড়াই করেন তাওহিদ হৃদয় ও অধিনায়ক মিরাজ। দুজনের ব্যাটে আসে ১০১ রানের জুটি। হৃদয় ৮৫ বলে ৫৬ রান করেন, আর মিরাজ খেলেন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬০ রানের ইনিংস। তবে এই জুটির পরই ধসে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ৬৭ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে ৪৮.৫ ওভারে ২২১ রানে গুটিয়ে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
আফগানিস্তানের পক্ষে আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও রশিদ খান তিনটি করে উইকেট নেন। গজনফর নেন দুটি। পুরো ইনিংসে বাংলাদেশ খেলেছে ১৬৯টি ডট বল, যা ব্যাটিং ব্যর্থতারই প্রতিচ্ছবি।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং করেন আফগান ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান। উদ্বোধনী জুটিতে ৫২ রান তোলেন তারা। এরপরও আফগান ব্যাটাররা নিয়মিত পার্টনারশিপ গড়ে এগিয়ে যান জয়ের পথে। গুরবাজ (৫০) ও রহমত শাহ (৫০) দুজনেই ফিফটি তুলে ফেরেন।
বাংলাদেশ একপর্যায়ে দলীয় ১৩৬ রানে দুই ওভারে দুটি উইকেট নিয়ে ম্যাচে ফেরার আভাস দিয়েছিল। কিন্তু আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদি ও আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের জুটিতে হার নিশ্চিত হয়ে যায়। পঞ্চম উইকেটে ৫৯ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান তারা। আজমত ৪০ রানে আউট হলেও শহীদি অপরাজিত ৩৩ রানে ম্যাচ শেষ করেন।
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন তানজিম হাসান সাকিব। ৭ ওভারে ৩১ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়েছেন তিনি। তবে আফগানদের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল অলরাউন্ডার আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের, যিনি তিন উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে করেছেন ৪০ রান—তারই পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন তিনি।
এ হারের ফলে সিরিজে পিছিয়ে পড়ল বাংলাদেশ। আগামী ১১ অক্টোবর একই মাঠে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে টাইগাররা, যেখানে টিকে থাকার লড়াইয়ে নামবে মিরাজের দল।