মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সাত প্রবাসী নিহত হয়েছেন। বুধবার (বাংলাদেশ সময়) বিকেল ৪টার দিকে ওমানের দুখুম সিদ্দা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন সারিকাইত ইউনিয়নের, একজন মাইটভাঙা এবং একজন রহমতপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাগরে মাছ ধরার কাজ শেষে ১৪ জন প্রবাসী একটি মাইক্রোবাসে করে ফিরছিলেন। পথে অতিরিক্ত গতির কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয় এবং আরও কয়েকজন আহত হন।

নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে—সারিকাইতের আমিন মাঝি, মো. আরজু, মো. রকি, সাহাব উদ্দিন ও মো. বাবলু; মাইটভাঙার মো. জুয়েল এবং রহমতপুরের মো. রনি।
সারিকাইত ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাছলিমা বেগম বলেন, “একই ইউনিয়নের পাঁচ তরুণের মৃত্যুতে সারিকাইতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের বাড়িগুলোতে চলছে আহাজারি।”
নিহত সাহাব উদ্দিনের বাবা মো. সিদ্দিক জানান, “আমার ছেলে ওমানে মাছ ধরার বোটে কাজ করত। কয়েক দিন সাগরে থেকে আজ সকালে বাসায় ফিরছিল। পথে দুর্ঘটনায় সে মারা যায়।”
সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাংচিনু মার্মা বলেন, “আমরা জেনেছি, ১৪ জন মাছ ধরার পর ফিরছিলেন। অতিরিক্ত গতির কারণে মাইক্রোবাসটি উল্টে যায়, এতে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিহতদের বেশিরভাগই সন্দ্বীপের শরিকাইট, মগধরা, মাইটভাঙা ও রহমতপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।”
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্দ্বীপ জুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজন ও প্রতিবেশীরা প্রিয়জন হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়েছেন।
ওমানের স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য দেশটির প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। এদিকে, দুখুম পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত শুরু করেছে।