যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে একটি সিনাগগে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় দুইজন নিহত ও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ (জিএমপি) এটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে অভিহিত করেছে।
পুলিশ জানায়, হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী সিরীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক জিহাদ আল-শামি। তিনি গাড়ি চালিয়ে উপাসনালয়ের বাইরে দাঁড়ানো লোকজনকে ধাক্কা দেন এবং পরে ছুরি দিয়ে হামলা চালান। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে গুলি করে হত্যা করে।
হামলার সময় সিনাগগে ইয়োম কিপুরের (ইহুদিদের অন্যতম পবিত্র দিন) প্রার্থনা চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, উপাসনালয়ের র্যাবাই ড্যানিয়েল ওয়াকার শান্তভাবে লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেন এবং ভেতরে হামলাকারীর প্রবেশ ঠেকাতে দরজা বন্ধ করে দেন।
গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ আরও জানায়, ঘটনাস্থলে আল-শামির কাছে থাকা একটি সন্দেহজনক ডিভাইস পরীক্ষা করা হলেও সেটি ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে। ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এটি স্পষ্টভাবে ইহুদিদের ওপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ। দেশজুড়ে সিনাগগগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে।” তিনি দ্রুত ইউরোপীয় নেতাদের একটি সম্মেলন থেকে দেশে ফিরে আসেন এবং নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেন।
অন্যদিকে লন্ডনের মেয়র সাদিক খানও রাজধানীতে পুলিশি টহল বৃদ্ধি করার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধান র্যাবাই স্যার অ্যাফ্রেইম মারভিস বলেন, “এ হামলা আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে চলা ইহুদিবিদ্বেষী বিদ্বেষের করুণ পরিণতি।”
জিএমপির প্রধান কনস্টেবল স্যার স্টিফেন ওয়াটসন সিনাগগের নিরাপত্তাকর্মী ও উপাসকদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “তারা যদি ভেতরে হামলাকারীর প্রবেশ ঠেকাতে না পারতেন, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ত।”
হামলার ঘটনার পর থেকে আশপাশের এলাকাগুলোতে পুলিশের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। ঘটনাটিকে ঘিরে ব্রিটিশ ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে।