২৭ সেপ্টেম্বর ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের কারুর জেলায় অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া বিজয় থালাপাতির রাজনৈতিক সমাবেশে পদদলিত হওয়ার ঘটনায় কমপক্ষে ৩৯ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
সমাবেশের সকালে উপস্থিত দুর্গাদেবী নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদ মাধ্যমকে জানান, “সকাল থেকে যারা সমাবেশে এসেছিল, কেউ আর বের হতে পারছিল না। আমি ভিড়ে আটকে পড়েছিলাম, পরে কয়েকজন তরুণের সাহায্যে অনেক কষ্টে বের হতে পেরেছি। কারো কাছে খাবার বা পানি ছিল না। আমি নিজের চোখে দেখেছি, বাচ্চারাও অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিল।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভিড় দিনের মধ্যে ক্রমশ বাড়তে থাকে। সমাবেশের জন্য সকাল ১২টা থেকে অনুমতি দেওয়া হলেও বিজয় নিজে সন্ধ্যার দিকে খোলা ট্রাকের ওপর বক্তৃতা দিতে আসেন। দিনভর সেখানকার মাঠ ও আশেপাশের এলাকা মানুষে পূর্ণ হয়ে যায়। বিপুল সংখ্যক সমর্থক বিজয়কে এক নজরে দেখার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ হুড়োহুড়ি এবং পদদলনের ঘটনা ঘটে। এতে অনেক মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায়।
দুর্গাদেবী এবং অন্য প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সমাবেশের আগে সকাল পর্যন্ত পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে বিকেলে ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। স্থানীয়রা উল্লেখ করেছেন, বিশেষ করে গর্ভবতী নারী এবং ছোট শিশুদের ওপর ভিড়ের প্রভাব ভয়াবহ ছিল। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “সকাল থেকে সমাবেশে অনেক গর্ভবতী নারী ও শিশু ছিল। তারা অনেককেই অজ্ঞান হয়ে যেতে দেখেছি।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিত ছিল এবং দুপুর ৩টা পর্যন্ত সমাবেশের অনুমতি ছিল। তবে বিজয় খোলা ট্রাকের ওপর বক্তৃতা দিতে আসার পর ভিড়ের গতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ডিএমকে পার্টির মুখপাত্র সারাভানান টিএমকের অব্যবস্থাপনা এবং পুলিশি নির্দেশনার ব্যর্থতা এই ঘটনায় দায়ী করেছেন।
পদদলিতের ঘটনায় বিজয় থালাপাতি, টিএমকের সাধারণ সম্পাদক এন আনন্দসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন বলেছেন, “তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে কাউকে হয়রানি করা হবে না। তদন্তের পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
বিজয় থালাপাতি, যিনি তামিল ও হিন্দি সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা, জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর নামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা এসএ চন্দ্রশেখর তামিল সিনেমার নামী পরিচালক এবং মা শোভা ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী। বিজয় ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ে হাতেখড়ি পেয়েছেন। ২০২৪ সালে তিনি টিএমকে গঠন করেন এবং তখন সিনেমা থেকে সরে দাঁড়ান।
রাজ্য সরকার নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ রুপি এবং আহতদের এক লাখ রুপি করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিজয় থালাপাতিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে জানিয়েছেন, তিনি নিজেও নিহতদের পরিবারকে ২০ লাখ রুপি এবং আহতদের দুই লাখ রুপি করে সহায়তা দেবেন।
এ ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য হাসপাতালে প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।