ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতিতে ব্যবসা করে লাভবান হচ্ছে এমন ১৫৮টি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পুরো পশ্চিমতীর দখলের হুমকি দেওয়ার পর এই তালিকা প্রকাশ করা হলো।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, তালিকায় এয়ারবিএনবি, বুকিং ডট কম, এক্সপেডিয়া ও ট্রিপঅ্যাডভাইজরের মতো বিশ্বখ্যাত ভ্রমণ ও আবাসন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এরা অধিকৃত পশ্চিমতীরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বসতিগুলোতে ব্যবসা পরিচালনা করছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা জানায়, অধিকৃত অঞ্চলে এমন ব্যবসা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) দৃষ্টিতে অবৈধ। তাই এই কার্যক্রম থেকে সরে আসতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বেশিরভাগই ইসরায়েলভিত্তিক। তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন, ফ্রান্স ও জার্মানিতে নিবন্ধিত বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও এতে যুক্ত আছে। এর বাইরে আরও প্রায় ৩০০ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যালোচনায় রয়েছে।
২০২৩ সালের জুনে সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকায় ৯০টি প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল। সেখান থেকে পরে যুক্তরাজ্যের অনলাইন ট্রাভেল কোম্পানি অপোডো এবং স্পেনের ই-ড্রিমসসহ সাতটি প্রতিষ্ঠানের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। এবার নতুন করে অন্তর্ভুক্তি হওয়ায় সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৮টিতে।
জাতিসংঘের অন্য এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল সচেতনভাবে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করছে, অবৈধ বসতি বাড়াচ্ছে এবং পশ্চিমতীর পুরোপুরি দখলের দিকে এগোচ্ছে। গাজায় হত্যাযজ্ঞের পাশাপাশি পশ্চিমতীরে জাতিগত সহিংসতা ও নিধনের ঘটনায় এই তালিকা প্রকাশ আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মানবাধিকার কর্মীরা মনে করছেন, তালিকাটি আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে বিশ্ববাসী বুঝতে পারবে কোন কোন প্রতিষ্ঠান সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে সহযোগিতা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, বহু দশক ধরে চলা ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।