পোল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ক্রাকোর ব্যস্ত পর্যটন এলাকায় বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১২ জনের বেশি। প্রাথমিক তদন্তে উগ্র ডানপন্থী ও চরম জাতীয়তাবাদী মতাদর্শ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে হামলাটি চালানো হয়েছে বলে ধারণা করছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে ক্রাকোর জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ‘মেইন মার্কেট স্কয়ারে’ গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করেন ২৫ বছর বয়সী এক পোলিশ নাগরিক। তার পরনে ছিল সামরিক পোশাকের মতো সরঞ্জাম এবং হাতে ছিল আগ্নেয়াস্ত্র। গাড়ি থেকে নেমেই সেখানে উপস্থিত লোকজনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন তিনি।
হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশ ও হামলাকারীর মধ্যে তীব্র গোলাগুলি হয়। এতে হামলাকারী গুরুতর আহত হন। এক পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে অস্ত্রোপচারের জন্য কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সন্দেহভাজন হামলাকারীকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পোলিশ সরকারের এক মন্ত্রী তাকে ‘চরম জাতীয়তাবাদী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে ক্রাকোর এই হত্যাকাণ্ডের পর প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জরুরি ব্রিফিংয়ে জানান, শহরটি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে সন্দেহভাজন হামলাকারীর নিজ বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজন নারী ও একজন পুরুষ। তারা হামলাকারীর পরিবারের সদস্য হতে পারেন বলে পুলিশের ধারণা।
প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘সাম্প্রতিক ইতিহাসে পোল্যান্ডে এ ধরনের নজিরবিহীন ও ভয়াবহ সন্ত্রাসী ঘটনা আর ঘটেনি। ক্রাকোর রাজপথে নিরীহ মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার এই নিষ্ঠুর আগ্রাসনকে নির্দ্বিধায় একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবেই গণ্য করা উচিত।’
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ক্রাকোর মেইন মার্কেট স্কয়ারে নিহত ছয়জনের মধ্যে চারজন নারী ও দুজন পুরুষ। তাদের মধ্যে তিনজন পোলিশ নাগরিক এবং একজন ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। বাকি দুজনের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা ও অন্যান্য ফরেনসিক কার্যক্রম চলছে।