মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য আধুনিক, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম দেখে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন দেশটির মালাক্কা রাজ্যের গভর্নর তুন সেরি সেতিয়া ড. হাজি মোহাম্মদ আলী বিন মোহাম্মদ রুস্তম। সম্প্রতি কুয়ালালামপুরের সাউথগেট কমার্শিয়াল সেন্টারে অবস্থিত এক্সপ্যাট সার্ভিসেস (কুয়ালালামপুর) এসডিএন. বিএইচডি. (ইএসকেএল)-এর পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করে তিনি এ মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে প্রবাসীদের জন্য এমন সেবাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস আহমাদের উদ্যোগ ও নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতায় পরিচালিত কেন্দ্রটির সার্বিক কার্যক্রম, সেবার মান এবং আবেদনকারীদের জন্য গড়ে তোলা আধুনিক ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন মালাক্কার গভর্নর।
জানা গেছে, মালাক্কা রাজ্যে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী বসবাস ও কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের অনেকের কাছ থেকেই ইএসকেএলের পাসপোর্ট সেবার মান, সুশৃঙ্খল পরিবেশ এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা শুনেছিলেন গভর্নর। প্রবাসীদের কাছ থেকে পাওয়া এমন প্রশংসার পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি পরিদর্শনের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনকালে পাসপোর্ট আবেদন গ্রহণ, তথ্য যাচাই, আবেদনকারীদের সেবা প্রদান এবং কেন্দ্রের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় সেবার মান, কর্মপরিবেশ ও শৃঙ্খলা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন গভর্নর। তিনি বলেন, বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য মালয়েশিয়ায় এত সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও পেশাদারভাবে পরিচালিত একটি পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র রয়েছে, তা তিনি আগে কল্পনাও করেননি।
বিশেষ করে কেন্দ্রটির সার্বিক শৃঙ্খলা, কর্মীদের পেশাদার আচরণ এবং সাধারণ প্রবাসীদের জন্য সহজ ও সম্মানজনক সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।
গভর্নরের এই বিশেষ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন তান শ্রী জো জো, দাতো উইরা রেদুনা, দাতো সেরি হাবস্রি ও দাতো জুলসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এ সময় ইএসকেএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস আহমদের নেতৃত্ব ও উদ্যোগেরও বিশেষ প্রশংসা করেন গভর্নর। বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য আধুনিক, স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলায় তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
গভর্নর উল্লেখ করেন, বিদেশে কর্মরত সাধারণ প্রবাসীদের জন্য এ ধরনের সেবামূলক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব কর্মী দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পাসপোর্টের মতো জরুরি সেবা নিতে আসেন, তাঁদের জন্য হয়রানিমুক্ত, সম্মানজনক ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
এদিকে, পরিদর্শনকালে মালাক্কার গভর্নর বাংলাদেশ সফরেরও আগ্রহ প্রকাশ করেন। মালাক্কায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসীর বসবাস ও কর্মসংস্থানের সুবাদে রাজ্যটির সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। তাঁর সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফর দুই দেশের জনগণের মধ্যে সৌহার্দ্য, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
গভর্নরের পরিদর্শন প্রসঙ্গে ইএসকেএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস আহমদ বলেন, মালাক্কার গভর্নরের প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন তাঁদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তিনি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি সাধারণ বাংলাদেশি প্রবাসীদের কাছ থেকেই ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা শুনেছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি নিজের চোখে সেবার কার্যক্রম দেখতে এসেছেন।
তিনি বলেন, “আমরা সব সময় বিশ্বাস করি, একজন প্রবাসী শ্রমিক শুধু একজন সেবাগ্রহীতা নন। তিনি তাঁর পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাই পাসপোর্টের মতো জরুরি সেবা নিতে এসে তাঁরা যেন সম্মান, আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্ব পান, তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।
গিয়াস আহমাদ আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু পাসপোর্ট আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা নয়; বরং প্রবাসীদের জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে তাঁরা কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই সম্মানের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সেবা নিতে পারেন। গভর্নরের এই স্বীকৃতি আমাদের পুরো টিমের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সাল থেকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতায় ইএসকেএল মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ও সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার সহায়তা সেবা দিয়ে আসছে। কুয়ালালামপুরের সাউথগেট কমার্শিয়াল সেন্টারে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক ব্যবস্থাপনা, সুশৃঙ্খল আবেদন প্রক্রিয়া, গ্রাহক সহায়তা এবং সেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোগান্তি কমাতে কাজ করছে।
মালাক্কার গভর্নরের এই পরিদর্শন ও প্রশংসা শুধু ইএসকেএলের জন্যই সম্মানজনক স্বীকৃতি নয়, বরং মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য পরিচালিত সেবামূলক কার্যক্রমের গুরুত্ব ও ইতিবাচক ভূমিকারও প্রতিফলন। প্রবাসীদের প্রতি সম্মান, সেবায় স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতাই যে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত পরিচয় এই পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।