মালয়েশিয়ায় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১০ মাসে ৩২ হাজারের বেশি নিয়োগকর্তা ও অবৈধ অভিবাসীর কাছ থেকে ৯১ কোটি ৭৮ লাখ রিঙ্গিত জরিমানা আদায় করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় এসব জরিমানা আদায় করা হয়।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল জানান, এ সময়ে মোট ৩২ হাজার ৫২ জন নিয়োগকর্তা ও অবৈধ অভিবাসীর কাছ থেকে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৫৯ জন নিয়োগকর্তার কাছ থেকে আদায় হয়েছে ৫০ কোটি ৪ লাখ রিঙ্গিত। অন্যদিকে ২৯ হাজার ৫৯৩ জন অবৈধ অভিবাসীর কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ৪১ কোটি ৭৪ লাখ রিঙ্গিত।
তিনি জানান, মোট জরিমানার ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ এসেছে নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে। এর মধ্য দিয়ে অবৈধ বিদেশি কর্মী নিয়োগের সঙ্গে জড়িত মালিকপক্ষের বিরুদ্ধেও অভিবাসন বিভাগের আইন প্রয়োগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিবাসন আইন প্রয়োগের কার্যক্রম শুধু অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। নির্ধারিত আইন ও বিধি-বিধান অমান্য করে বিদেশি কর্মী নিয়োগকারী নিয়োগকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, প্রত্যেক নিয়োগকর্তার দায়িত্ব হলো, নিয়োগ করা বিদেশি কর্মীদের বৈধ ভ্রমণ নথি, কাজের অনুমতিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ নিশ্চিত করা। অবৈধভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে যারা অনিয়মের সুযোগ নিচ্ছেন, তাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।
সাইফুদ্দিন নাসুতিওন বলেন, অভিবাসন বিভাগের আইনগত দায়িত্ব ও ক্ষমতার ভিত্তিতে পরিচালিত এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমের একটি চিত্র তুলে ধরেছে এই পরিসংখ্যান। তবে শুধু জরিমানা আদায়ের পরিমাণ দিয়ে আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা যায় না। অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান, তল্লাশি ও নজরদারিও অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
এ সময় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে তা আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালকসহ সংস্থাটির সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও দায়িত্ব পালনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।