দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যে ছেদ, ২০২১ সাল থেকে স্থাপন করা বিশেষ এলইডি আলোকসজ্জা এবার থাকছে না। আবাসন অধিকার আন্দোলনকারীদের অবস্থান কর্মসূচির কারণেই তা বাতিল হচ্ছে। আবাসন অধিকারের দাবিতে চলমান অবস্থান কর্মসূচির কারণে চত্বরের বড় একটি অংশ দখল হয়ে থাকায় সেখানে বড়দিনের আলো স্থাপনের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এবারই প্রথম বড়দিনের মৌসুমে আলো ছাড়া থাকবে শহরের এই গুরুত্বপূর্ণ চত্বর।
বেতেভে জানিয়েছে, এল পেরিওদিকোর প্রকাশিত খবরের পর বার্সেলোনা সিটি কাউন্সিলের সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আগামী বড়দিনের আলোকসজ্জার জন্য প্লাসা কাতালুনিয়ায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। চত্বরটির জন্য বিশেষভাবে তৈরি নকশার আলো অন্য কোনো জায়গায় স্থাপনের পরিকল্পনাও নেই বলে জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।
২০২১ সাল থেকে প্লাসা কাতালুনিয়ার ওপরের অংশে বিশেষ এলইডি আলোর নকশা ব্যবহার করা হচ্ছিল। বিখ্যাত আলোকনকশাবিদ আন্তোনি আরোলার স্টুডিওর তৈরি এই আলোকসজ্জা বড়দিনের সময় চত্বরটির অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছিল। এবার সেই আলোকসজ্জা গুদামেই সংরক্ষিত থাকবে।
কবে জ্বলবে বার্সেলোনার বড়দিনের আলো, এখনো অনিশ্চিত
শহরের অন্যান্য এলাকার বড়দিনের আলোকসজ্জা কবে এবং কীভাবে উদ্বোধন করা হবে, সে বিষয়েও এখনো বিস্তারিত জানায়নি সিটি কাউন্সিল।
প্রতি বছর সাধারণত ব্ল্যাক ফ্রাইডের আশপাশে বড়দিনের আলোকসজ্জা চালু করা হয়। তবে এবার সেই সময় স্পেনের সাধারণ নির্বাচনের প্রচারাভিযানের সঙ্গে মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কবে হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে বার্সেলোনা ইউরোপীয় বড়দিনের রাজধানীর স্বীকৃতি পেয়েছে। এমন একটি বছরে শহরের কেন্দ্রীয় চত্বরের আলোকসজ্জা না থাকার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
আলোকসজ্জা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক
সিটি কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে পিপি ও জুনৎস পার্টি। পিপির বার্সেলোনা শাখার নেতা দানিয়েল সিরেরা প্লাসা কাতালুনিয়ায় আলোকসজ্জা না থাকার সিদ্ধান্তকে লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি মেয়রকে অবস্থান কর্মসূচি সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, সিটি কাউন্সিলে জুনৎসের নেতা জর্দি মার্তি বলেছেন, কর্তৃত্বসম্পন্ন সরকার হলে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের বিষয়টি বিবেচনা করে শহরের কেন্দ্রে বড়দিনের আলোকসজ্জা নিশ্চিত করত। তাঁর মতে, আবাসন অধিকারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি বৈধ হলেও জনসাধারণের জায়গার স্বাভাবিক ব্যবহারের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন।
শহরের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকাগুলোর ব্যবসায়ীদের সংগঠন বার্সেলোনা ওবের্তাও অবস্থান কর্মসূচি সরিয়ে জায়গাটি পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, বিকল্প কোনো আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করতে হলেও চত্বরটি খালি করা প্রয়োজন।
তবে আবাসন আন্দোলনকারীদের অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে নগর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক দল ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়ায় বার্সেলোনার বড়দিনের প্রস্তুতি এবার নতুন বিতর্কের মুখে পড়েছে।
| তথ্যসূত্র: betevé, El Periódico, Barcelona Oberta