যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্যের পর ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্কের কারণে পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা ঠেকাতেও বিল আনার পরিকল্পনা জানিয়েছেন তাঁরা।
মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে বড় ধরনের সাফল্য পাওয়ার পর বুধবার এ পরিকল্পনার কথা জানান ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য টেড লিউ। তিনি বলেন, নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর ছাড় পুনর্বহাল, ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ইরান যুদ্ধ বন্ধে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেবেন ডেমোক্র্যাটরা।
ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেড লিউ বলেন, ‘আমরা সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন (এসিএ) সংশ্লিষ্ট কর ছাড় পুনর্বহালের জন্য বিল পাস করব। আমেরিকানদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি করা ট্রাম্পের অযৌক্তিক শুল্ক বন্ধে বিল আনব। পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ বন্ধেও বিল পাস করব।’
কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির ওপর নজরদারি, বিভিন্ন বিল আটকে দেওয়া এবং কংগ্রেসের কমিটিগুলোর মাধ্যমে তদন্ত পরিচালনার ক্ষেত্রে দলটি বাড়তি সুযোগ পাবে। তবে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা ও ভেটো দেওয়ার অধিকার থাকায় ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি পাল্টে দেওয়ার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের সীমাবদ্ধতা থাকবে।
এর আগেও ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন ব্যবহার করে ইরানে সামরিক অভিযান বন্ধের চেষ্টা করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। প্রতিনিধি পরিষদে এ সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে তিনটি প্রস্তাব পাস হলেও সেগুলোর কোনোটিই ট্রাম্পের অনুমোদনের জন্য তাঁর কাছে পাঠানো হয়নি। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেটেও একবার একই ধরনের প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন পাওয়া গিয়েছিল। তবে পরদিনই রিপাবলিকানরা তাঁদের অবস্থান পরিবর্তন করেন।
নতুন কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা আইন প্রণয়ন কিংবা সামরিক অভিযানের অর্থায়ন সীমিত করার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা করতে পারেন। তবে এ ধরনের কোনো বিলে ট্রাম্প ভেটো দিলে তা অকার্যকর করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট, উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরোধিতা করে আসছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। দলটির নেতাদের দাবি, আমদানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কারণে মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে শুল্কের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া অথবা প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ নিতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। তবে ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি পুরোপুরি পরিবর্তন করা সহজ হবে না।
কংগ্রেসে ক্ষমতার এই পরিবর্তন আগামী জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। এর আগ পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বহাল থাকবে। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প তাঁর নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ অব্যাহত রাখতে পারবেন।