নিজের ঘরে কন্যাসন্তান না থাকলেও ১৫ জন সুবিধাবঞ্চিত মেয়ের জীবনে পরম আশ্রয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছেন সাজ্জাদ পারভেজ। দীর্ঘ ১৬ বছরে আশ্রয়হীন ও অস্বচ্ছল ১৫ মেয়ের বিয়ের পাশাপাশি তাদের জীবনের প্রতিটি সংকটে বাবার মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
সাজ্জাদ পারভেজ বর্তমানে সরকারি একটি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পূর্বে সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আশ্রয়হীন মেয়েদের সঙ্গে তাঁর গভীর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ইয়াসমিন ও খালেকের বিয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই মানবিক যাত্রায় তিনি একে একে তানজিলা, রহিমা, বৃষ্টি, তামান্নাসহ ১৫ মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করেন এবং প্রতিটি বিয়েতে ‘উকিল বাবা’ হিসেবে দায়িত্ব নেন।
সাধারণত বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার পর দায়িত্ব শেষ হলেও সাজ্জাদ পারভেজের ক্ষেত্রে তা হয়নি। নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি মেয়েরা অসুস্থ হলে বা সন্তান প্রসবের মতো জরুরি মুহূর্তে রক্ত জোগাড় থেকে শুরু করে সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন তিনি। বিবাহবিচ্ছেদের পর অসুস্থ রিয়া নামের এক মেয়ের চিকিৎসাসহ এক মাসের বাজার দিয়েও পাশে দাঁড়িয়েছেন এই মানবিক মানুষ।
অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তানজিলা জানান, বিপদের মুহূর্তে তাঁদের মাথার ওপর ছায়া হিসেবে পাশে থাকেন তিনি। সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, নিজের একটি মাত্র ছেলে থাকলেও এই মেয়েদের মাধ্যমে তিনি কন্যাসন্তানের অভাব পূরণ করেছেন এবং তাদের বিপদকে নিজের সন্তানের বিপদ হিসেবে দেখেন।
রক্তের সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব, ত্যাগ আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় গড়া সাজ্জাদ পারভেজের এই জীবনঘনিষ্ঠ গল্প সমাজে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।