জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও তরুণ প্রজন্মের উদ্বেগ নিরসনে সরকার ব্যর্থ—এমন অভিযোগে ফ্রান্সজুড়ে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাজধানী প্যারিসে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার আয়োজিত এই কর্মসূচির শুরুতে পরিবেশ উৎসবমুখর থাকলেও শেষভাগে বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ফ্রান্সের প্যারিস থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা এএফপি এ খবর নিশ্চিত করেছে।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে শুরু হওয়া প্রতিবাদী এই আন্দোলনটি পরবর্তীতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। শনিবারের প্রধান মিছিলে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন বলে পৃথক হিসাব দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আয়োজক শ্রমিক ইউনিয়ন সিজিটি। এক সপ্তাহ আগের দাঙ্গার পর নতুন করে সহিংসতা এড়াতে পুরো ফ্রান্সজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল।
শনিবার দিনের শুরুতে ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে, গান বাজিয়ে ও উল্লাস প্রকাশ করে আন্দোলনকারীরা প্যারিসের পূর্বাঞ্চলীয় সড়কগুলোতে শান্তিপ্রিয়ভাবে অগ্রসর হচ্ছিলেন। কিন্তু মিছিলের শেষভাগে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের সঙ্গে তরুণ বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। একপর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে আতশবাজি ছোড়া হলে পুলিশ পাল্টা লাঠিচার্জ শুরু করে ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এই সহিংসতায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও তরুণ আহত হয়েছেন। তবে মিছিলে অংশ নেওয়া বহু তরুণ শিক্ষার্থী পুলিশের এই মারমুখী আচরণ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করে প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকার হরণের অভিযোগ তুলেছেন।
বিক্ষোভের শেষপর্যায়ে সহিংস ঘটনার সৃষ্টি হলেও নিজেদের ভবিষ্যৎ ও অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতীজ্ঞ আন্দোলনকারীরা। রাত নামার পর পুলিশ রাস্তাঘাট খালি করতে শুরু করলে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। তীব্র উদ্বেগ থাকলেও একটি জাতি হিসেবে ঐক্যবদ্ধ থেকে অধিকার আদায়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন আন্দোলনরত তরুণ শিক্ষার্থীরা।