দেশে এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজ রোববার দুপুর ১২টা ১৯ মিনিটে সিলেট অঞ্চলে এ কম্পন হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সুনামগঞ্জের ছাতক। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ধরা পড়েছে ৪।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুবাইয়াত কবীর জানিয়েছেন, এটি স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প হলেও এর কেন্দ্রবিন্দু সিলেটের ছাতক এলাকায় ছিল। রাজধানী ঢাকা থেকে এর অবস্থান প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে।
এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্যে। ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, আজকের ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ডাউকি ফল্ট এলাকায়। এটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি অঞ্চল। স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প হলেও এটি সতর্কসংকেত বহন করছে।
তিনি আরও জানান, এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই একই এলাকায় একাধিকবার ৪ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। যা ইঙ্গিত দিচ্ছে অঞ্চলটি ধীরে ধীরে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ইতিহাসে দেখা যায়, ডাউকি ফল্টেই ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্র নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছিল। এরপর ১৮৯৭ সালে এ অঞ্চলে ঘটে ভয়াবহ ‘গ্রেট ইন্ডিয়া আর্থকোয়েক’, যার মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ২। ওই ভূমিকম্পে শুধু আসাম ও মেঘালয় নয়, ঢাকাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে সময় ঢাকায় পাঁচজন নিহত হন। এমনকি কম্পনের পর কয়েক মাস রমনায় তাঁবু করে কিংবা বুড়িগঙ্গার বজরায় থেকে দিন কাটিয়েছিলেন ইংরেজ কর্মকর্তারা।