স্পেনের বার্সেলোনায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপিত হয়েছে শারদীয় দুর্গাপুজো। অ্যাসোসিয়েশন কুলতুরাল হিন্দুর উদ্যোগে আয়োজিত এ পুজোয় অংশ নেন প্রবাসী বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন কমিউনিটির প্রতিনিধিরা। দীর্ঘ ২২ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে দুর্গাপুজোর আয়োজন করে আসছে সংগঠনটি। প্রবাসে বাঙালির ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক বন্ধন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বার্সেলোনা শহরের গ্রান ভিয়ার একটি তারকাখচিত হোটেলের বলরুমে অনুষ্ঠিত হয় এবারের পুজোর আয়োজন। পুজাকে ঘিরে অনুষ্ঠানস্থল পরিণত হয় প্রবাসী বাঙালিদের মিলনমেলায়। পূজার্চনা, প্রসাদ বিতরণ, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ আয়োজন সম্পন্ন হয়। উৎসবের বিভিন্ন পর্বে অংশ নিয়ে প্রবাসীরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করার সুযোগ পান।
ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত চলে দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিকতা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিদিনই ছিল নানা আয়োজন। পূজার্চনা ও ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে উৎসব উদ্যাপনের এ আয়োজন অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আনন্দ ও সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি করে।
পুজোর অন্যতম আকর্ষণ ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন উৎসবে বাড়তি মাত্রা যোগ করে। সপ্তমীর বিশেষ অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অবন্তী দেব সিথি। তাঁর সংগীত পরিবেশনা উপস্থিত দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে বাঙালির সংগীত ও শিল্পচর্চার ঐতিহ্যও তুলে ধরা হয়।
আয়োজকদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় বার্সেলোনায় দুর্গাপুজো প্রবাসী বাঙালিদের কাছে পরিচিত একটি বার্ষিক আয়োজন হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। টানা ২২ বছর ধরে এ আয়োজন অব্যাহত রাখা সংগঠনটির সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা ও প্রবাসে নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রাখার অঙ্গীকারের প্রতিফলন। দেশের বাইরে বসবাস করলেও ধর্মীয় উৎসব, ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে শেকড়ের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখার সুযোগ তৈরি করে এ ধরনের আয়োজন।
দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় আচার পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রবাসে বসবাসরত বাঙালিদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন কমিউনিটির প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ সাংস্কৃতিক পরিচিতি ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে। বার্সেলোনার মতো বহুজাতিক শহরে এ ধরনের আয়োজন প্রবাসী বাঙালিদের নিজস্ব ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় সমাজের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সংযোগ গড়ে তুলতেও সহায়ক।
এবারের আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন কুলতুরা হিন্দুর একাধিক সদস্য ও সংগঠক। আয়োজক কমিটির অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিমুল চক্রবর্তী, অসীম সেন, উত্তম শীল, প্রদীপ দেবনাথ, আশুতোষ দে, শঙ্কর দেবনাথ, সুমন সাহা, নয়ন দাস, রাজীব দাস, অমিত মোদক, সজীব সেন, পলাশ রায়, চয়ন দেবনাথ, সুমন দাস, পলাশ দেবনাথ, নিক্কন রায়, রিন্টু দেবনাথ, জয়দীপ রায়, প্রণয় সাহা ও নকুল দেবনাথসহ অনেকে।
দীর্ঘ ২২ বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অ্যাসোসিয়েশন কুলতুরা হিন্দুর এ আয়োজন বার্সেলোনার প্রবাসী বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ স্থান ধরে রেখেছে। পূজা, সংগীত ও পারস্পরিক মিলনমেলার মধ্য দিয়ে উৎসবটি প্রবাসে বাঙালির ঐতিহ্যচর্চা এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরেছে।