বার্সেলোনার মহানগর এলাকায় অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পুলিশের নতুন অভিযানে ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ছয়জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। কানপাই (Kanpai) পরিকল্পনার আওতায় পরিচালিত এই অভিযানে বার্সেলোনা শহরে প্রায় ৭০টি প্রশাসনিক অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ১২টি পরিদর্শন ও অভিযান চালানো হয়েছে।
কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক পুলিশ মোসোস দেস্কোয়াদ্রা, বার্সেলোনার নগর পুলিশ গুয়ার্দিয়া উরবানা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে সহিংসতার মাধ্যমে ছিনতাই, ছয়জনের বিরুদ্ধে চুরি, তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতের সাজা লঙ্ঘন, ১০ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা অন্যান্য আইনি নির্দেশ কার্যকর করার কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একজনকে নথি জালিয়াতি, চারজনকে অস্ত্র রাখার অভিযোগ, একজনকে সম্পত্তির ক্ষতিসাধন, দুজনকে গাড়ির ভেতর থেকে চুরি, ১২ জনকে অভিবাসন আইনসংক্রান্ত কারণে এবং একজনকে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কাতালোনিয়াজুড়ে ১০৭ জন গ্রেপ্তার
অভিযানটি শুধু বার্সেলোনা শহরে সীমাবদ্ধ ছিল না। বার্সেলোনার উত্তর ও দক্ষিণের মহানগর এলাকাসহ কাতালোনিয়ার বিভিন্ন প্রাদেশিক রাজধানীতেও অভিযান চালানো হয়।
পুরো কাতালোনিয়ায় এই অভিযানে মোট ১০৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে আরও ২৩ জনকে। পাশাপাশি ২৭৫টি প্রশাসনিক অভিযোগ নথিভুক্ত এবং ৫০টি প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন ও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
প্রায় ১৪ ঘণ্টা ধরে চলা এই অভিযানে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি কর্মকর্তা ও সদস্য অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মোসোস দেস্কোয়াদ্রা, গুয়ার্দিয়া উরবানা, বিভিন্ন পৌর পুলিশের সদস্য, স্পেনের জাতীয় পুলিশ এবং বন্দর পুলিশের সদস্যরা। বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী ও শ্রম পরিদর্শন বিভাগের কর্মকর্তারাও অভিযানে অংশ নেন।
এস্তাসিও দেল নর্দে বিশেষ নজর
বার্সেলোনার উত্তর বাস টার্মিনাল এস্তাসিও দেল নর্দে (Estació del Nord) ছিল অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। এই টার্মিনালে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করেন। স্পেনের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিদেশ থেকে আসা যাত্রীরাও এখানে পৌঁছান।
মোসোস দেস্কোয়াদ্রার নাগরিক নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা রাফা তেল্লোর ভাষ্য অনুযায়ী, গণপরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়। কারণ, এসব স্থানে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয় এবং অপরাধে বারবার জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার প্রয়োজন থাকে।
পুলিশের দাবি, অপরাধের ধরন ও সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেই অভিযানস্থল নির্বাচন করা হয়। এস্তাসিও দেল নর্দে যাত্রীদের পরিচয় যাচাইয়ের পাশাপাশি পুলিশের কুকুরদল দিয়ে তাঁদের লাগেজ তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিতে মাদক, অস্ত্র ও অর্থ খোঁজার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সান্ত জোয়ান সড়কে গ্রেপ্তার
অভিযানের সময় বার্সেলোনার পাসেই দে সান্ত জোয়ান (Passeig de Sant Joan) এলাকায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে সঙ্গীর কাছাকাছি যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল। এ ছাড়া তাঁর কাছে মাদক ও একটি ধারালো অস্ত্র পাওয়া যাওয়ায় প্রশাসনিক অভিযোগও নথিভুক্ত করা হয়।
কানপাই পরিকল্পনায় অপরাধ কমার দাবি
কানপাই পরিকল্পনা ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে চালু করা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো বারবার অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং জননিরাপত্তা জোরদার করা।
পুলিশ ও কাতালোনিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগের দাবি, এই পরিকল্পনার আওতায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অপরাধের পুনরাবৃত্তির সঙ্গে সম্পর্কিত অপরাধ ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করে এই হিসাব দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, নিয়মিত পুলিশি উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান এই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে অপরাধ দমন করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
| তথ্যসূত্র: betevé