ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে জাল ভিসার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাচার এবং ২১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মানব পাচারকারী চক্রের মূল হোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), নরসিংদী।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে পিবিআই নরসিংদী জেলা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে পিবিআই নরসিংদী জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার ড. এস. এম. ফরহাদ হোসেনের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত অভিযানে গাজীপুর ও নরসিংদী থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন গাজীপুর সদর উপজেলার তিতারকুল এলাকার সুবোধ চন্দ্র দাস (৩১) এবং নরসিংদী সদর উপজেলার শিমুল চন্দ্র দাস (৩৭)। সুবোধ চন্দ্র দাসকে এই পাচার চক্রের মূল হোতা এবং শিমুলকে তার অন্যতম সহযোগী বলে জানিয়েছে পিবিআই।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম আব্দুর রউফকে ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ইতালি পাঠানোর চুক্তিতে রাজি করান আসামিরা। ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে এ চুক্তি হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৪ জুন আসামিরা ভিকটিমকে ইতালি না পাঠিয়ে জাল কাগজপত্র ও ভুয়া ভিসার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাঠান। মালয়েশিয়া বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে ভিসা জালিয়াতি ধরা পড়লে সেখান থেকে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে ভিকটিম আসামিদের বিষয়টি জানালে তারা পুনরায় ইতালি পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে আরও টাকা দাবি করেন। রউফ ইতালি যাওয়ার আশায় দফায় দফায় মোট ২১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা আসামিদের দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে ইতালি পাঠাতে ব্যর্থ হয়ে টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরে ভিকটিম আব্দুর রউফ বাদী হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন এবং পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলাটি নরসিংদী মডেল থানার মামলা নম্বর-০৯, তারিখ ৩ অক্টোবর ২০২৬। মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় গত ৫ অক্টোবর পিবিআই স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে। এসআই (নিঃ) মো. ইয়াসিন, পিপিএমকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
তদন্তকারী দলের প্রধান পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) আবুল খায়েরের নেতৃত্বে পিবিআইয়ের একটি দল গাজীপুর থেকে মূল হোতা সুবোধকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোর সাড়ে ৩টায় নরসিংদীর টাউয়াদী থেকে সহযোগী শিমুলকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত দুই আসামিই নরসিংদীর বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে মানব পাচারের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।