ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালি পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। এ অভিযানে এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা মোতায়েন করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন এই অভিযানে স্থলভাগে লড়াই করবে রিয়াদের নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়েমেনি বাহিনী। তাদের সহায়তায় বিমান হামলা চালাবে সৌদি আরব। পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয়জন ব্যক্তি জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অভিযান শুরু হতে পারে।
গত মাসে হুথি বাহিনী লোহিত সাগরের উপকূল ধরে দ্রুত অগ্রসর হয়ে বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয়। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে চলে যাওয়াকে সৌদি আরবের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত উদ্বেগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অভিযানের ক্ষেত্রে সৌদি নেতৃত্ব দুটি সম্ভাবনা বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন উপসাগরীয় ও ইয়েমেনি কর্মকর্তারা। এর মধ্যে প্রথমটি হলো বাব আল-মানদেবের আশপাশে সীমিত অভিযান চালিয়ে উপকূলীয় অঞ্চল পুনর্দখল করা। দ্বিতীয় সম্ভাবনা হলো ইয়েমেনের আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফসহ একাধিক এলাকায় সমন্বিতভাবে বড় আকারের হামলা চালানো।
পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, অভিযানের পরিসরের ওপর নির্ভর করে এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনাকে সংঘাতে যুক্ত করা হতে পারে।
লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বাব আল-মানদেব গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। এই পথ দিয়ে ভূমধ্যসাগর ও এশিয়ার মধ্যে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় চলতি বছরে বাব আল-মানদেবের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব মনে করছে, বাব আল-মানদেব হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকলে তাদের সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনায় যাওয়া কঠিন হবে। এ কারণে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এক পশ্চিমা কূটনীতিক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে। তবে মার্কিন বাহিনী সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তুরস্ক ও পাকিস্তানও সৌদি আরবকে সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে সহযোগিতা করছে।
এদিকে হুথিদের সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সৌদি আরবের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিত্রদের কাছ থেকে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চেয়েছে রিয়াদ।