ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিথ মছার মাঝ আকাশে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পরও উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করিয়ে ১৭৪ যাত্রীর জীবন রক্ষা করেছেন। ভয়াবহ এ ঘটনার পর তিনি প্রশংসিত হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছ থেকেও।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবের উদ্দেশে ছেড়ে যায় ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজটি। এতে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। উড়োজাহাজটি ওমানের আকাশসীমায় থাকা অবস্থায় ককপিটে স্মিথকে তাঁরই এক সহকারী পাইলট ছুরিকাঘাত করেন। সন্দেহ করা হচ্ছে, যাত্রীবোঝাই উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করাই ছিল হামলাকারীর উদ্দেশ্য।
হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায়ও পরিস্থিতি সামাল দেন ক্যাপ্টেন স্মিথ। তিনি উড়োজাহাজটির গতিপথ সৌদি আরবের দিকে ঘুরিয়ে দেন। পরে সৌদি আরবের তাবুক শহরের বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটির জরুরি অবতরণ করানো হয়।
স্মিথের পেশাগত বিবরণী অনুযায়ী, বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চালানোর ক্ষেত্রে তাঁর ১৩ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ও লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২২ সালে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন তিনি। নিজের পেশাগত বিবরণীতে উড়োজাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘নিরাপত্তার প্রতি গভীর মনোযোগ’ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন স্মিথ।
ককপিটে গুরুতর আহত হওয়ার পরও উড়োজাহাজ ও যাত্রীদের নিরাপদে রাখার ঘটনায় স্মিথকে ‘নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
নেতানিয়াহু তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পরও তিনি (স্মিথ) লড়াই করেছেন। হামলাকারীকে প্রতিহত করেছেন। ককপিটের দরজা খুলে দিয়েছেন। এতে যাত্রী ও ক্রুরা হামলাকারীকে কাবু করতে পেরেছেন। ফলে মাঝ আকাশে বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে। ’
ঘটনার পর ক্যাপ্টেন স্মিথ সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবুক শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রিয়াদে ভারতীয় দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, স্মিথের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
দূতাবাসের পোস্টে বলা হয়েছে, ‘আমরা তাঁর (স্মিথের) পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ করা হবে। তাঁর সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্সে লিখেছেন, ‘ভয়াবহ বিপদের মুখে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি (স্মিথ) অসীম সাহস ও অন্যদের জীবন রক্ষায় দৃঢ় সংকল্প দেখিয়েছেন। তাঁর সাহস শত শত মানুষের জীবন রক্ষা করেছে। বড় একটি বিপর্যয় এড়াতে সহায়তা করেছে।’
এদিকে ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজটির যাত্রীদের সৌদি আরব থেকে ইসরায়েলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ক্যাপ্টেন স্মিথের পরিবার ভারতের মুম্বাইয়ের ঘাটকপার ইস্ট এলাকায় বসবাস করে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি পরাগ শাহ টেলিফোনে জানান, ঘটনার খবর পেয়ে স্মিথের মা-বাবা বৃহস্পতিবার ভোরেই সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।