স্পেনে আবারও বাড়ল মূল্যস্ফীতি। জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট (আইএনই) প্রকাশিত প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে দেশটির বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৯ শতাংশে। আগস্টে এই হার ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি আরও শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।
সেপ্টেম্বরের এই হার গত তিন বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্পেনে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে উঠেছিল। এরপর আর ৪ দশমিক ৯ শতাংশের মতো উচ্চ পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি দেখা যায়নি।
মূল্যস্ফীতি বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে জ্বালানির দাম। সেপ্টেম্বর মাসে জ্বালানি ও অন্যান্য জ্বালানিসংক্রান্ত পণ্যের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
এর প্রভাব শুধু গাড়ির তেল কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার কথা নয়। জ্বালানির দাম বাড়লে পণ্য পরিবহন, ব্যবসা ও উৎপাদনের খরচও বাড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দামের ওপর পড়তে পারে।
খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও চাপ রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে অপরিশোধিত বা তাজা খাদ্যপণ্যের দাম বছরে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রাথমিক হিসাবে জানিয়েছে আইএনই। অন্যদিকে সেবার দাম বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ।
অর্থাৎ একজন সাধারণ পরিবারের জন্য পরিস্থিতির অর্থ হলো- গাড়িতে জ্বালানি ভরতে বেশি খরচ হতে পারে, পরিবহন ও বিভিন্ন সেবার খরচ বাড়তে পারে এবং বাজারে কিছু খাদ্যপণ্যের দামও আগের তুলনায় বেশি থাকতে পারে।
তবে এর মানে এই নয় যে প্রতিটি পণ্য বা সেবার দাম ৪ দশমিক ৯ শতাংশ করে বেড়েছে। ৪ দশমিক ৯ শতাংশ হলো সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হার। কোন পণ্য কতটা বেড়েছে, তা পণ্যভেদে আলাদা।
মূল্যস্ফীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক, খাদ্য ও জ্বালানির মতো বেশি ওঠানামা করা উপাদান বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল মূল্যস্ফীতিও সেপ্টেম্বরে বেড়েছে। এই হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশে।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পেছনে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের অস্থিরতা স্পেনের জ্বালানি ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি করছে।
এদিকে সেপ্টেম্বরের শেষের সঙ্গে জ্বালানিতে সরকারের দেওয়া কিছু সহায়তার মেয়াদও শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে আগামী মাসগুলোতে জ্বালানি ও গ্যাসের দাম নিয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে। নিয়ন্ত্রিত প্রাকৃতিক গ্যাসের শুল্কও অক্টোবর থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে এর আগে সতর্ক করা হয়েছে।
সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে গ্যাস ও বুটেনের দাম নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। তবে এসব ব্যবস্থা মূল্যবৃদ্ধির পুরো চাপ কতটা কমাতে পারবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্পেনে মূল্যস্ফীতি আবার দ্রুত বাড়ছে এবং এবার এর প্রধান চাপ আসছে জ্বালানি খাত থেকে। জ্বালানির দাম যদি দীর্ঘ সময় বেশি থাকে, তাহলে তার প্রভাব পরিবহন থেকে শুরু করে বাজারের বিভিন্ন পণ্য ও সেবার খরচে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।