স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতা থেকে ফুটবল দলের বাসের নিচে লুকিয়ে মূল ভূখণ্ডে পৌঁছেছে মরক্কোর ১৭ বছরের এক কিশোর। ঝুঁকিপূর্ণ ওই যাত্রায় সেউতা থেকে আলহেসিরাস হয়ে একশ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দেয় সে।
ঘটনাটি ঘটে সেউতায় ম্যাচ শেষ করে মূল ভূখণ্ডে ফেরার পথে স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ফুটবল ক্লাব রিয়াল ভায়াদোলিদের দলের বাসে। স্পেনের সংবাদমাধ্যম ও বার্তা সংস্থা এএফের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, সেউতা ছাড়ার আগে কিশোরটি বাসের পেছনের অ্যাক্সেলের কাছে উঠে লুকিয়ে পড়ে।
জিব্রাল্টার প্রণালি ফেরিতে পার হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় বাসের নিচেই ছিল সে। পরে বাসটি আন্দালুসিয়ার সড়কপথে এগিয়ে যাওয়ার সময় নিজের অবস্থান নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে কিশোরটি। বাস থেকে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সে ইচ্ছাকৃতভাবে শব্দ করতে শুরু করে।
আলহেসিরাস বন্দর ছাড়ার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বাসটি একটি বিশ্রাম এলাকায় থামে। তখন দলের কয়েকজন খেলোয়াড় বাসের নিচ থেকে চিৎকার ও অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পান। পরে তারা বাসের পেছনের অ্যাক্সেলের কাছে কিশোরটিকে দেখতে পান এবং তাকে বের হতে সহায়তা করেন।
দীর্ঘ সময় অত্যন্ত সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় থাকার কারণে কিশোরটি তখন প্রায় নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। খেলোয়াড়েরা তাকে পানি ও খাবার দেন এবং অনুবাদ প্রযুক্তির মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিশোরটি আরবি ভাষায় কথা বললেও স্প্যানিশ জানত না এবং ফরাসিও খুব সামান্য জানত।
রিয়াল ভায়াদোলিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি জানার পর তারা জেন্ডারমেরিকে খবর দেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পৌঁছানো পর্যন্ত ক্লাবের প্রতিনিধিরাই কিশোরটির দেখভাল করেন। পরে তাকে জেন্ডারমেরির হেফাজতে নেওয়া হয়।
ক্লাবটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হোর্হে সান্তিয়াগো ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র ১৭ বছর বয়সী একজন কিশোর উন্নত জীবনের আশায় নিজের জীবনকে এমন ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে—বিষয়টি তাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
তিনি বলেন, কিশোরটির বয়স বিবেচনায় তাকে মানবিকভাবে সহায়তা করা প্রয়োজন ছিল। ক্লাবের পক্ষ থেকে তাকে খাবার, পানি এবং যোগাযোগের সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।
যানবাহনে লুকিয়ে সেউতা থেকে স্পেনের মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার চেষ্টা অবশ্য নতুন নয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, এর আগেও কয়েকজন কিশোর রিয়াল ভায়াদোলিদের বাসে লুকিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে তাদের সেই চেষ্টা সফল হয়নি।
সর্বশেষ ঘটনাটি আবারও সেউতা থেকে মূল ভূখণ্ডে পৌঁছানোর জন্য অভিবাসীদের নেওয়া চরম ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের এমন বিপজ্জনক পথে যাত্রা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
উত্তর আফ্রিকার উপকূলে অবস্থিত সেউতা দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেখানে অভিবাসন চাপ ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ফুটবল দলের বাসের নিচে লুকিয়ে ১৭ বছরের কিশোরের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছানোর ঘটনাটি সীমান্ত পেরোনোর ঝুঁকি ও অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীদের দুর্দশাকে আবারও সামনে এনেছে।