মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় এবার দেখা গেল ভিন্ন এক দৃশ্য। রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই শহর দিন-রাত মুখর হয়ে উঠেছে জ্ঞানপিপাসু মানুষের পদচারণায়। রাতের আয়োজনের পাশাপাশি দিনের বেলাতেও হাজারো মানুষ ছুটে আসছেন ইসলামি জ্ঞানচর্চার বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নিতে।

‘মালয়েশিয়া তুরাথ ইসলামী উৎসব ২০২৬’-এর অংশ হিসেবে পুত্রজায়ার মসজিদ পুত্রায়- অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কিতাবুল হিকাম’ পাঠের সমাপনী ও ইজাজত প্রদান অনুষ্ঠান। এতে অংশ নিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ পুত্রজায়ায় জড়ো হন।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই উৎসবকে ঘিরে প্রতিদিনই পুত্রা মসজিদে জ্ঞানচর্চার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দিনের বিভিন্ন সময় থেকে গভীর রাত, এমনকি ফজরের সময় পর্যন্ত মসজিদের কাতারগুলো পূর্ণ থাকছে জ্ঞানপিপাসু মানুষের উপস্থিতিতে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও বয়সের মানুষ এতে অংশ নিচ্ছেন।

আয়োজকদের ভাষ্য, এ আয়োজন কোনো বিলাসবহুল হোটেল কিংবা অভিজাত মিলনায়তনে নয়; বরং মালয়েশিয়ার জাতীয় প্রশাসনিক কেন্দ্রের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পুত্রা মসজিদে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে প্রশাসনিক রাজধানীর পরিচিতির সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে জ্ঞানচর্চার নতুন মাত্রা।
তুরাথ ইসলামী উৎসবের মূল লক্ষ্য ইসলামি ঐতিহ্য, জ্ঞান ও চিন্তাধারার সঙ্গে সাধারণ মানুষের সংযোগ আরও গভীর করা। প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ইসলামি গ্রন্থ পাঠ, আলেমদের ব্যাখ্যা ও আলোচনা এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে উৎসবটি একটি বিস্তৃত জ্ঞানভিত্তিক পরিবেশ তৈরি করেছে।

বিশেষ করে ‘কিতাবুল হিকাম’-এর পাঠকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। গ্রন্থটির বিষয়বস্তু ও আধ্যাত্মিক শিক্ষাকে আলেমদের ব্যাখ্যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে। এতে তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের অংশগ্রহণও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পুত্রজায়ার এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রশাসনিক রাজধানীকে জ্ঞানচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার যে চিত্র সামনে এসেছে, তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। আয়োজকদের মতে, রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সমাজে জ্ঞান, শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার পরিবেশ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।
‘মালয়েশিয়া মাদানি’ ধারণার সঙ্গে জ্ঞান ও সংস্কৃতির সম্পর্ক তুলে ধরে আয়োজকদের বক্তব্য জ্ঞানচর্চা ও একটি উন্নত সমাজ গঠনের প্রচেষ্টা পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। পুত্রজায়ায় তুরাথ ইসলামী উৎসবের আয়োজন সেই ধারারই একটি উদাহরণ।
উৎসবটি ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এতে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট আলেম, ইসলামি চিন্তাবিদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ রয়েছে। বিভিন্ন আয়োজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।
দিনের ব্যস্ত প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়া আর রাতের নীরব শহর নয় তুরাথ ইসলামী উৎসবের দিনগুলোতে এটি হয়ে উঠেছে জ্ঞান অন্বেষণকারীদের মিলনস্থল। প্রশাসনের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পুত্রজায়ায় হাজারো মানুষের এই জ্ঞানসন্ধানী উপস্থিতি শহরটির আরেকটি পরিচয় সামনে এনেছে পুত্রজায়া শুধু প্রশাসনের কেন্দ্র নয়, জ্ঞানচর্চারও কেন্দ্র হয়ে উঠছে।