ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফী হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এবং পরবর্তীতে হাইকোর্টে আপিলে খালাস পাওয়া ১০ আসামি দেশের তিনটি কারাগার থেকে অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন| দীর্ঘ প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ফাঁসির কনডেম সেলে থাকার পর মুক্ত আকাশে শ্বাস ফেললেন তাঁরা|
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সোনাগাজী কামিল মাদ্রাসার ইংরেজি প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মহিউদ্দিন শাকিল, হাফেজ আব্দুল কাদের, মোহাম্মদ শামীম, আবদুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা ও ইমরান হোসেন মামুন মুক্তি পান|
এছাড়া কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান কামরুন্নাহার মণি| এ সময় তাঁর ৬ বছর বয়সি শিশুকন্যা মোবা¯কে^রা খানম রাও মায়ের সঙ্গে বেরিয়ে আসে| ফাঁসির সেল থেকে বের হয়ে আসা ¯^জনদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন পরিবারের সদস্যরা,|
এর আগে, গত সোমবার সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর কাউন্সিলার মাকসুদ আলম দীর্ঘ সাড়ে সাত বছর পর ফেনী জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান| অন্যদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান|
ফেনী জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. আব্দুল জলিল ও জেলার কাজি মাজহারুল ইসলাম আদালতের প্রজ্ঞাপন ও খালাসের আদেশের কপি পাওয়ার পর মাকসুদ আলমের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন|
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নুসরাতকে নিজ কক্ষে ডেকে শ্লীলতাহানি করেন| এ ঘটনায় মামলা হলে অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার হন| পরবর্তীতে মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়| ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হয়|
একই বছরের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল তৎকালীন বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন|
তবে, আসামিপক্ষের হাইকোর্টে আপিলের পরগত ২৪ আগস্ট উচ্চ আদালত প্রধান দুই আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং চারজনকে যাবজ্জীবন দেন|
অন্যদিকে, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় বাকি ১০ আসামিকে বেকসুর খালাস প্রদান করে পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণা করেন|