বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
মিশরীয় সংবাদমাধ্যম নীল আল-আখবার-এর বরাতে জানা যায়, মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. বদর আবদেল-আতি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আজ এক টেলিফোন আলাপে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন।
ফোনালাপে মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হওয়ায় মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির পক্ষ থেকে অভিনন্দন বার্তা পৌঁছে দেন। একই সঙ্গে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকেও অভিনন্দন জানানো হয়।
এ ছাড়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান ড. বদর আবদেল-আতি। চলতি মাসে শুরু হতে যাওয়া এই অধিবেশনের এক বছর মেয়াদি সভাপতিত্বকালে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় ও পরামর্শ অব্যাহত রাখার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর আকাঙ্ক্ষা ও অগ্রাধিকার তুলে ধরা, জাতিসংঘ সংস্কারের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা জোরদারে সাধারণ পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
টেলিফোন আলাপে দুই দেশের সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ অব্যাহত রাখা, ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলো দ্রুত কার্যকর করা এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলোতে নতুন সহযোগিতার সুযোগ খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় ওষুধ, বস্ত্র ও তৈরি পোশাক, মৎস্যচাষ এবং চামড়াশিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি মিশরের সুয়েজ খাল অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে পারস্পরিক অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়েও দুই মন্ত্রী আলোচনা করেন।
মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এসব সম্ভাবনাময় খাতে সহযোগিতা বাড়লে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পারস্পরিক বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে, যা উভয় দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে আরও সুদৃঢ় করবে।
আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক পরিস্থিতির সর্বশেষ চিত্রও উঠে আসে। ড. বদর আবদেল-আতি আঞ্চলিক সংকট ও সংঘাতের উত্তেজনা হ্রাস এবং এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ন্ত্রণে মিশরের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সংঘাত যেন আরও ছড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে মিশর নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।