ইসরায়েলি সেনাদের লাগাতার হামলায় ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নতুন করে অন্তত ৭২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের সবাই সাধারণ মানুষ বলে জানিয়েছে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার দিনভর গাজাজুড়ে চালানো হামলায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে চলমান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ৬৫৬ জনের বেশি।
সংবাদমাধ্যম আনাদোলু জানায়, পশ্চিম গাজার একাধিক এলাকায় ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে বাস্তুচ্যুতদের তাঁবু ধ্বংস হয়ে যায়। শুধু দুটি পরিবারের অন্তত ১৫ জন এতে নিহত হয়েছেন। এছাড়া গাজার টিবা–২ নামের বহুতল ভবনে হামলায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম গাজার নাসের স্ট্রিটে একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রের তাঁবুতে ড্রোন হামলায় পাঁচজন প্রাণ হারান। আল-আহলি ব্যাপটিস্ট হাসপাতালের কাছেও ড্রোন হামলায় এক ব্যক্তি নিহত হন।
শেখ রাদওয়ান এলাকায় সমবেত ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ চালালে আরও একজন নিহত হন। মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে বিমান হামলায় প্রাণ হারান এক বাসিন্দা। একই দিনে দেইর আল-বালাহ শহরে ড্রোন হামলায় মারা যায় একটি শিশু।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের জালাল স্ট্রিটে গোলাবর্ষণে নিহত হন আরও চারজন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬৪ হাজার ৬০০–এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে পুরো উপত্যকা, পাশাপাশি তীব্র খাদ্যসংকট ও দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে মানুষ।
এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলা চলছে।