দীর্ঘ ৭ বছরের আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পাসপোর্ট হাতে পেয়েছেন ইতালি বিএনপির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক এবং প্রবাসী জুলাই-গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক সোহাগ খান। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে তাঁর পাসপোর্ট ব্লক করে রাখা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
পাসপোর্ট প্রাপ্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় সোহাগ খান জানান, বিগত সরকারের আমলের ব্লকিংয়ের কারণে তিনি চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। এমনকি একপর্যায়ে প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ খুইয়েও কোনো সমাধান পাননি। পরবর্তীতে রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে কোনো প্রকার অতিরিক্ত অর্থ খরচ ছাড়াই দ্রুততম সময়ে তিনি নতুন পাসপোর্ট হাতে পান।
এই সংকট নিরসনে সহযোগিতা করায় তিনি বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, রোম দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক কারণ ও অনিয়মের অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৩ সালে ইতালিতে আসার পর থেকে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন সোহাগ খান। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে বাংলাদেশে এসে এমআরপি (MRP) পাসপোর্ট নবায়ন করেন। তবে ২০২০ সালে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুনরায় আবেদন করলে বিএনপি রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁর আবেদনটি স্থগিত করা হয়।
সোহাগ খানের অভিযোগ, তৎকালীন রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান ও তাঁর সহযোগীদের মাধ্যমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর পাসপোর্ট আটকে রাখা হয়েছিল। পাসপোর্ট জটিলতা ও স্বজন হারানোর বেদনা দীর্ঘ ৭ বছর পাসপোর্ট না থাকায় সোহাগ খানের ব্যক্তিগত জীবন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। মানসিক দুশ্চিন্তায় দীর্ঘদিন তিনি স্বাভাবিক কাজকর্ম থেকেও বঞ্চিত ছিলেন।
সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, ২০২১ সালে তাঁর বাবা মৃত্যুবরণ করলেও পাসপোর্ট জটিলতার কারণে শেষবারের মতো বাবাকে দেখতে বা জানাজায় অংশ নিতে তিনি দেশে ফিরতে পারেননি।ইতালিতে পাসপোর্ট সংক্রান্ত নানাবিধ মানসিক চাপে প্রবাসীদের চরম ভোগান্তির কথা স্মরণ করে সোহাগ খান সকল প্রবাসীকে যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করা এবং আইনি পথে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
ইতালিতে প্রবাসীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া এই বিএনপি নেতা সংকটে পাশে থাকা সংবাদকর্মীদের প্রতি ধন্যবাদ জানান।
দীর্ঘদিনের আইনি বাধা কাটিয়ে পাসপোর্ট হাতে পাওয়ায় তিনি এখন দ্রুত দেশে ফিরে মরহুম বাবার কবর জিয়ারত এবং মায়ের সাথে দেখা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সাথে প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে ভবিষ্যতে আরো সোচ্চার থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।