বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় ৬৪ জন আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলেও মন্দ হতো না বলে জাতীয় সংসদে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে রুমিন ফারহানা কটাক্ষ করে বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললে জানা যায় দেশের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেমন একাধিক রয়েছেন, ঠিক তেমনি দেশের ৬৪টি জেলায় ৬৪ জন আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলেও মন্দ হতো না, কারণ বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটাই ‘ভালো’ অবস্থায় গিয়ে ঠেকেছে।
সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় জ্বালানি খাতের বেহাল দশা তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, মাননীয় স্পিকার, জ্বালানি নিয়ে আর কী বলবো! গ্যাস আর বিদ্যুতের ব্যাপারে দুষ্ট লোকেরা বলে-অবশ্য ভালো লোকেরা বলে না-তারা বলে ‘টুকু আসে টুকু যায়’।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ কখন আসে আর কখন যায়, কতক্ষণ থাকে তা নাকি দেশের সাধারণ মানুষ বুঝে উঠতেই পারে না। একদিকে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, অন্যদিকে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের হাহাকার চলছে, যা জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
দেশের
নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য বলেন, বর্তমানে মানুষ মূল্যস্ফীতির কারণে চরম অস্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের প্রাথমিক অগ্রগতি ও প্রতিশ্রুতি ছিল আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতের নিশ্চয়তা বিধান করা। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে কথা বলতে গেলে দেখা যায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যঙ্গ অথবা বাকচাতুরতা দিয়ে আসল বিষয়টি ঘুরিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন।
কর্মসংস্থান ও শিল্প খাতের চরম মন্দা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার সময় এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিশাল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইতোমধ্যেই ৬২ হাজারের বেশি মানুষ তাদের চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯০০টিরও বেশি কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন কর্মসংস্থান তো দূরের কথা, যাদের বর্তমানে চাকরি রয়েছে তাদের চাকরি আর কতদিন টিকে থাকে তা একমাত্র আল্লাহ মাবুদই জানেন।
বাজারের বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, বাজারে পণ্য কিনতে গেলে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি খুঁজে পাওয়া যায় না। ডিম ও মিনিকেট চালের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ যে কতটা কষ্টে রয়েছে, তা টিসিবির পণ্য কেনার সময় মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায়।