স্পেন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য গাজায় চলমান গণহত্যা বন্ধ করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণকে সহায়তা করা। তিনি বলেন, দেশ রক্ষার সঙ্গে হাসপাতাল বোমা মারা বা শিশুদের অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এটি আত্মরক্ষা নয়, বরং নিরস্ত্র জনগোষ্ঠী ধ্বংসের চেষ্টা। গাজায় ইতিমধ্যে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, দুই মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত, যার অর্ধেকই শিশু।
সোমবার ঘোষিত প্যাকেজ অনুযায়ী, একটি রাজকীয় অধ্যাদেশ মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সংসদে পাস হবে। এতে ২০২৩ সালের অক্টোবরে কার্যকর হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জামের বাণিজ্য নিষিদ্ধকরণকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হবে। এছাড়া ইসরায়েলি সেনাদের জন্য জ্বালানি বহনকারী জাহাজ স্পেনের বন্দরে ঢুকতে পারবে না, সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী বিমান স্পেনের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না এবং গাজায় গণহত্যা বা যুদ্ধাপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। এর আওতায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সরকারের কয়েকজন সদস্য পড়তে পারেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইতোমধ্যেই নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। তবে অনেক ইউরোপীয় নেতা এ পরোয়ানা কার্যকর করেননি। যুক্তরাষ্ট্র, যা ইসরায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র, উল্টো আদালতের প্রধান প্রসিকিউটর করিম খানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
স্পেন আরও ঘোষণা করেছে, পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তায় জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-কে ১০ মিলিয়ন ইউরো এবং ২০২৬ সালের মধ্যে গাজায় মানবিক সহায়তায় মোট ১৫০ মিলিয়ন ইউরো দেবে দেশটি।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সাআর এ পদক্ষেপকে ইহুদিবিদ্বেষী বলে অভিহিত করেছেন এবং সানচেজ সরকারের বিরুদ্ধে বৈরী নীতি গ্রহণের অভিযোগ এনেছেন। একইভাবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ যখন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন এবং যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন, তখনও তাঁদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তোলা হয়েছিল। ইসরায়েল ঘোষণা করেছে, দুই স্পেনীয় মন্ত্রীকে দেশটিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে মাদ্রিদ এ অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ইসরায়েল থেকে রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে। স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলের আনা অভিযোগ মিথ্যা ও মানহানিকর, এবং শান্তি, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় তারা ভয় পাবে না। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গাজা ও পশ্চিম তীর নিয়ে ঘোষিত পদক্ষেপগুলো স্পেনের জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের প্রতিফলন এবং দেশের সার্বভৌম ক্ষমতার অংশ।
২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়, ইউরোপের কয়েকটি দেশ আগে থেকেই এ পদক্ষেপ নিয়েছিল।