প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতেও এই সফরের সময়সূচি নিয়ে নানা আগাম প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
এই সফরের সার্বিক অগ্রগতি ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এবং জনকূটনীতি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম শহীদুল করিম।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর সফল করার লক্ষ্যে একটি উপযুক্ত ও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ঢাকার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বার্তা পাঠানো হয়েছে। সফরের পূর্বে তিনটি নির্দিষ্ট শর্ত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর বাস্তবে রূপ দিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লিতে সাম্প্রতিক প্রকাশ্য বক্তব্যের পর এই আলোচনা ও প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে।
ঢাকা তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছে যে, সফল ও অর্থবহ সফরের জন্য পারস্পরিক ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা আবশ্যক। ঢাকা যে বিষয়গুলোর ওপর জোর দিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে—শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো, ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের দ্রুত হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা এবং সার্বিকভাবে একটি বন্ধুভাবাপন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা। এই পরিস্থিতি তৈরি হলেই কেবল প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তীব্র গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত সরকারের কাছে একাধিকবার কূটনৈতিক পত্র বা আবেদন পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।