পর্তুগালের রাষ্ট্রীয় রেল পরিবহন সংস্থা সিপি কম্বোইওশ দে পর্তুগাল ২০২৫ সালে যাত্রী পরিবহনে নতুন রেকর্ড গড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মোট ২০ কোটি ৮২ লাখ যাত্রী সিপির বিভিন্ন ট্রেনে ভ্রমণ করেছেন, যা চলতি শতাব্দীতে সর্বোচ্চ।
২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সিপির যাত্রী বেড়েছে ১ কোটি ৯৯ লাখ, অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এই পরিসংখ্যান পর্তুগালের মানুষের মধ্যে রেল যোগাযোগের প্রতি ক্রমবর্ধমান আস্থা এবং টেকসই পরিবহন ব্যবস্থায় রেলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রমাণ দিচ্ছে।
সিপির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পেদ্রো মোরেইরা বলেন, টেকসই পরিবহন নীতির ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের এই ফলাফল বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। রেল পরিবহন তুলনামূলকভাবে পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এটি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো, যাত্রীপ্রতি জ্বালানি ব্যবহার হ্রাস এবং শহরাঞ্চলের যানজট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২০২৫ সালে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে আঞ্চলিক ও আন্তঃআঞ্চলিক ট্রেনগুলোতে। ২০২৪ সালে যেখানে এসব ট্রেনে যাত্রী ছিল ১ কোটি ৫৩ লাখ, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ১৭ লাখে। অর্থাৎ এক বছরে যাত্রী বেড়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখ, যা ১০৭ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।
এছাড়া ইন্টারসিদাদিশ ট্রেনে যাত্রী সংখ্যা ৩৬ লাখ থেকে বেড়ে ৫৪ লাখে পৌঁছেছে। এতে এক বছরে যাত্রী বেড়েছে প্রায় ১৮ লাখ, অর্থাৎ ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ।
পোর্তো শহরের নগর ট্রেনেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৪ সালের ২ কোটি ৩৯ লাখ যাত্রীর বিপরীতে ২০২৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটি ৭৬ লাখে। অর্থাৎ যাত্রী বেড়েছে প্রায় ৩৮ লাখ বা ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ। এর পেছনে লেইশোইশ রেললাইনে যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল পুনরায় চালু হওয়াও অন্যতম কারণ।
অন্যদিকে, সিপির আলফা পেন্ডুলার দ্রুতগতির ট্রেন সেবাতেও যাত্রী চাহিদা ইতিবাচক ছিল।
সবুজ রেল পাসে ব্যাপক সাড়া
২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে চালু হওয়া সবুজ রেল পাস ইতোমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সিপির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এই পাসের ৭ লাখ ৮০ হাজার সাবস্ক্রিপশন হয়েছে এবং ইন্টারসিদাদিশ ট্রেনে ৩০ লাখের বেশি আসন সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে শুধু ২০২৫ সালেই হয়েছে ৭ লাখ ৪ হাজার সাবস্ক্রিপশন এবং ইন্টারসিদাদিশ ট্রেনে ২৭ লাখ সংরক্ষণ। সিপির মতে, তুলনামূলক সাশ্রয়ী এই পরিবহন ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আগ্রহ দেশের কার্বন নিঃসরণ কমানোর জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সিপি পুরোনো রেলবগি ও ট্রেন পুনরুদ্ধার, আধুনিকায়ন এবং নতুন রেলযান যুক্ত করার কাজও এগিয়ে নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে রক্ষণাবেক্ষণ দলগুলো আরকো সিরিজের রেলবগি পুনরুদ্ধার করেছে, যেগুলো এখন ইন্টারসিদাদিশ সেবাতেও ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে যাত্রীদের আরাম বাড়ার পাশাপাশি ট্রেনের সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে আঞ্চলিক রেলসেবা শক্তিশালী করতে স্ট্যাডলার-এর কাছ থেকে কেনা ২২টি নতুন ট্রেনের প্রথমটি ইতোমধ্যে পর্তুগালে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ১২টি হবে দ্বৈত জ্বালানি বা দ্বৈত ব্যবস্থায় চলাচলকারী এবং ১০টি হবে বৈদ্যুতিক ট্রেন। প্রকল্পটির বিনিয়োগের পরিমাণ ১৫ কোটি ৮০ লাখ ইউরো।
এছাড়া আলস্টম ও ডিএসটি-এর সমন্বয়ে গঠিত একটি জোটের সঙ্গে আরও ১১৭টি নতুন বৈদ্যুতিক ট্রেন কেনার চুক্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬২টি নগর সেবার জন্য এবং ৫৫টি আঞ্চলিক সেবার জন্য নির্ধারিত। পাশাপাশি নগর সেবার জন্য আরও ৩৬টি ট্রেন কেনার বিকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে নগর ও আঞ্চলিক রেলসেবার জন্য ১৭৫টি নতুন ট্রেন যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রকল্পে বিনিয়োগ হবে ১২০ কোটি ইউরোর বেশি, যা সিপির ইতিহাসে একসঙ্গে রেলযান কেনার সবচেয়ে বড় উদ্যোগ।
সিপির মতে, যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ, সেবার নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং পর্তুগালের রেল পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতেই এই বড় ধরনের বিনিয়োগ করা হচ্ছে।