পর্তুগালে অনিয়মিতভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের বৈধতা পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে দেশটির বিলুপ্ত অভিবাসন ও সীমান্ত সংস্থা এসইএফের সাবেক এক কর্মকর্তাকে ১০ বছরের কার্যকর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে শতাধিক অভিবাসীর বসবাসের অনুমতিপত্র পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মামলায় ১৫০টিরও বেশি ঘটনার তদন্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের বড় একটি অংশ ছিলেন ব্রাজিলের নাগরিক।
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসীদের পর্তুগালে বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার বিনিময়ে ৫০০ থেকে ২ হাজার ইউরো পর্যন্ত অর্থ নেওয়া হতো।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রের সঙ্গে কয়েকজন আইনজীবী এবং এসইএফের সাবেক কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাল নথি ও ভুয়া চিকিৎসা সনদ ব্যবহার করা হতো। পাশাপাশি এসইএফের কিছু সেবা কেন্দ্রে দ্রুত সাক্ষাতের সময় বা আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
মামলার আরেক আসামি আইনজীবী বারবারা ব্রাগা ইতোমধ্যে ৬ বছর ৮ মাসের কার্যকর কারাদণ্ড পেয়েছেন। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, তিনি এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রায় ৭৩ হাজার ইউরো আয় করেছিলেন।
একই মামলায় ব্রাজিলের নাগরিক ও লিসবনে বসবাসকারী আইনজীবী সিমোনে মারিন্স এবং এসইএফের আরেক সাবেক কর্মকর্তা মারিয়া ফনসেকা-কেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে তাদের ক্ষেত্রে কারাদণ্ড স্থগিত রাখা হয়েছে।
এই রায় পর্তুগালের অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে সরকারি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই যখন অর্থের বিনিময়ে অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধতা পাওয়ার সুযোগ করে দেন, তখন পুরো অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
উল্লেখ্য, পর্তুগালের সাবেক এসইএফ বিলুপ্ত হওয়ার পর অভিবাসন ও আশ্রয়সংক্রান্ত প্রশাসনিক দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এআইএমএ-এর অধীনে চলে যায়। ফলে পুরোনো ব্যবস্থায় সংঘটিত এই ধরনের দুর্নীতির ঘটনা পর্তুগালের অভিবাসন প্রশাসনের সংস্কার ও জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে নিয়ে এসেছে।