স্পেনে বসবাসের ভিত্তিতে স্প্যানিশ নাগরিকত্বের জন্য করা ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩৯৩টি আবেদন এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। স্পেনের বিচার মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিন পর্যন্ত এসব আবেদন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিল।
সরকারি তথ্য বলছে, অপেক্ষমাণ আবেদনের সবচেয়ে বড় অংশই ২০২৫ সালে জমা দেওয়া। ওই বছরের আবেদনগুলোর মধ্যে ২ লাখ ১৮ হাজার ৬৫৯টি তখনও নিষ্পত্তি হয়নি। এর বাইরে ২০২৪ সালের ১৯ হাজার ২৩০টি এবং ২০২৩ সালের ৯ হাজার ৬১৬টি আবেদনও অপেক্ষমাণ ছিল। এমনকি ২০২২ সালের ৫ হাজার ৭২৯টি এবং ২০২১ সালের ২ হাজার ৫৭৯টি আবেদনও বছরের শেষে নিষ্পত্তির বাইরে ছিল।
অর্থাৎ, শুধু নতুন আবেদন নয়, আগের কয়েক বছরের কিছু আবেদনও এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে সরকারি পরিসংখ্যানে অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। কারণ, নতুন নথি ডিজিটালভাবে যুক্ত হওয়া বা পুরোনো আবেদন সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে পরিসংখ্যান হালনাগাদ হয়। বিচার মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে সতর্ক করেছে।
এদিকে নাগরিকত্বের আবেদনের চাপ সামলাতে স্পেনের প্রশাসন বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি করছে। সরকারি হিসাবে, ২০২৫ সালে বসবাসের ভিত্তিতে ২ লাখ ২১ হাজার ১৭৬ জন বিদেশি স্প্যানিশ নাগরিকত্ব পেয়েছেন। একই বছরে নাগরিকত্বের আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ২ লাখ ৯৬ হাজার।
২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বসবাসের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের জন্য মোট ১১ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। একই সময়ে ১১ লাখের বেশি আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্তও দেওয়া হয়েছে—যার মধ্যে অনুমোদন, প্রত্যাখ্যান ও ফাইল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত রয়েছে।
নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর স্পেনে বৈধ ও ধারাবাহিকভাবে বসবাস, সুশৃঙ্খল আচরণ এবং স্প্যানিশ সমাজে যথেষ্ট একীভূত হওয়ার মতো শর্ত পূরণ করতে হয়। আবেদনভেদে প্রয়োজনীয় বৈধ বসবাসের সময়ও ভিন্ন হতে পারে।
আরেকটি বিষয় হলো, ‘স্পেনে নাগরিকত্বের আবেদন’ বলতে সব ধরনের আবেদনকে একই পরিসংখ্যানের মধ্যে ধরা হয় না। বসবাসের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের আবেদন ছাড়াও বংশসূত্র, বিশেষ আইন বা ‘Ley de Memoria Democrática’-এর আওতায় নাগরিকত্বের আলাদা প্রক্রিয়া রয়েছে। ফলে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩৯৩ সংখ্যাটি মূলত বসবাসের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের অপেক্ষমাণ আবেদন।
স্পেনের বিচার মন্ত্রণালয়ের অনলাইন ব্যবস্থায় আবেদনকারীরা নিজেদের নাগরিকত্বের আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখতে পারেন।
তথ্যসূত্র: স্পেনের বিচার মন্ত্রণালয় এবং স্পেনের অভিবাসনবিষয়ক স্থায়ী পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (OPI) প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান।