সরকারের কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসার সুযোগ নেই এবং ‘ক্যাপ্টেন’ শেখ হাসিনার নির্দেশনাই অনুসরণ করবেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দেশে ফেরেননি সাকিব আল হাসান। এরপর থেকে তিনি জাতীয় দলের বাইরেও রয়েছেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান থাকলেও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরে আইনি লড়াইয়ে অংশ নিতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, সরকার যদি আমার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে আমি আনন্দের সঙ্গে দেশে ফিরব, আদালতের মুখোমুখি হব এবং যা যা প্রয়োজন, সবই করব। কারণ আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি।
গত ৫ আগস্ট ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ক্ষমতাচ্যুত ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন সাকিবও। সেখানে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন আর সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।
শেখ হাসিনাকে ‘ক্যাপ্টেন’ সম্বোধন করে সাকিব বলেন, ক্যাপ্টেন (শেখ হাসিনা) যা বলবেন, আমরা সেটাই অনুসরণ করব। আমার মনে হয় উনারাই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন এবং তাদের নির্দেশনাই আমরা মেনে চলব।
সাবেক এই অলরাউন্ডার জানান, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা সক্রিয় রয়েছে। একটি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় এক বিক্ষোভকারীকে হত্যার অভিযোগে এবং অন্যটি দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষের করা দুর্নীতির মামলা।
হত্যা মামলার অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে সাকিব বলেন, যে দিনটির ঘটনায় তাকে আসামি করা হয়েছে, সেদিন তিনি কানাডার টরন্টোতে একটি ক্রিকেট ম্যাচ খেলছিলেন।
কর-সংক্রান্ত বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। সাকিবের ভাষ্য, গত ১০ বছর ধরে তিনি দেশের সর্বোচ্চ করদাতাদের একজন। নিয়মিত কর পরিশোধ করার পরও তদন্তের কথা বলে প্রায় দেড় বছর ধরে তার ব্যাংক হিসাব বন্ধ রাখা হয়েছে। তদন্তে কোনো অনিয়মের প্রমাণ না মিললে সেই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।