পর্তুগালে পর্তুগিজ নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনের সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেলেও প্রক্রিয়াকরণের গতি ধীর হওয়ায় দেখা দিয়েছে নজিরবিহীন দীর্ঘসূত্রতা। দেশটির ‘ইনস্টিটিউট অব রেজিস্ট্রি অ্যান্ড নোটারি’ (আইআরএন)-র প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাঁচ লাখেরও বেশি নাগরিকত্ব আবেদন পর্যালোচনার অপেক্ষায় আটকে রয়েছে। আইআরএন কার্যালয়গুলোতে নতুন আবেদনের চাপ এবং জনবল সংকটের কারণে প্রক্রিয়াটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
আইআরএন-এর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাগরিকত্বের আবেদনের সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে। শুধু পূর্ববর্তী বছরেই কয়েক লাখ নতুন আবেদন জমা পড়েছিল, যার বড় একটি অংশ এসেছে ব্রাজিল ও পর্তুগিজ ভাষাভাষী দেশগুলোর (সিপিএলপি) নাগরিকদের কাছ থেকে। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়া ও অন্যান্য দেশের অভিবাসীরাও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় পর্তুগিজ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন।
রেজিস্ট্রি কার্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তার তীব্র অভাব রয়েছে। অপরদিকে পর্তুগিজ নাগরিকত্ব ও অভিবাসন আইনে বেশ কিছু পরিবর্তনের আভাস পাওয়া মাত্রই আবেদনকারীদের মধ্যে দ্রুত আবেদন জমা দেওয়ার হিড়িক পড়ে যায়। তাছাড়া আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইন প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরের চেষ্টা করা হলেও আগের হাজার হাজার কাগজভিত্তিক আবেদন এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা ডিজিটাল ধাপে যেতে বাধা সৃষ্টি করছে।
রেজিস্ট্রি কর্মচারীদের ইউনিয়ন (এসটিআরএন) জানিয়েছে, পর্যাপ্ত টেকনোলজি ও জনবল ছাড়া এত বিপুল পরিমাণ আবেদন সময়মতো নিষ্পত্তি করা অসম্ভব। বর্তমানে একটি নাগরিকত্ব আবেদনের প্রাথমিক যাচাই শুরু হতেই অন্তত দুই থেকে তিন বছর সময় লেগে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আবেদনের এই পাহাড়সম জট কাটাতে না পারলে পর্তুগালের নাগরিকত্ব প্রদান ব্যবস্থা বড় ধরনের সংকটে পড়বে। বর্তমানে আবেদনকারীদের ধৈর্য ধরা ছাড়া বিকল্প কিছু নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।