প্রাচীন সভ্যতার দেশ মিশরের রাজধানী কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, বিশেষ দোয়া, রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের বাণী পাঠ, আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, চেতনা ও তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় দূতাবাসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করেন প্রথম সচিব (শ্রম) মো. জাকির হোসেন, যিনি পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনাও করেন। এরপর গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত আরোগ্য এবং দেশ ও জাতির অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মো. নোমান উদ্দিন আজহারী। দোয়া শেষে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। বাণীসমূহ পাঠ করেন যথাক্রমে প্রথম সচিব (শ্রম) মো. জাকির হোসেন, দূতালয় প্রধান আতাউল হক, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মাসুদ করিম চৌধুরী এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা (হিসাব) মুহাম্মদ রেজাউল করিম খান।
পরে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ইত্তিহাদ’-এর সভাপতি নোমানুল করিম, কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল আমিন আকন্দ এবং ইয়াসমিনা টেক্সটাইলের ব্যবস্থাপক ইব্রাহিম হাসান।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স গৌতম কুমার দে গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদ এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী যোদ্ধাদের অবদান গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করে তাঁদের প্রতি ধন্যবাদ জানান তিনি।
তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল বৈষম্য, দুর্নীতি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। এর মূল লক্ষ্য ছিল ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও স্বাধীন মতপ্রকাশ নিশ্চিত করার উপযোগী একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। হাজারো মানুষের এই আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি আরও যুক্ত করেন, ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এ গণঅভ্যুত্থান জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের এক ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ন্যায়বিচার, সাম্য, সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অগ্রযাত্রায় প্রবাসীদেরও সক্রিয় অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভার আগে গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া দূতাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স অতিথিদের সঙ্গে ঘুরে দেখেন এবং এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে মিশরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মকর্তা, শিক্ষক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও প্রবাসীদের বিপুল উপস্থিতি দেখা যায়। সবশেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে নৃত্যসহ একটি সমবেত সংগীত পরিবেশন করা হয়। আমন্ত্রিত অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবারে আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।