স্পেনের উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় অভিবাসীদের নজিরবিহীন ঢলে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মরক্কো থেকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে সেউতায় প্রবেশ করেছেন বলে জানিয়েছেন শহরটির প্রেসিডেন্ট হুয়ান হেসুস ভিভাস। একই সময়ে সাগরপথে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৪১ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে।
সেউতায় স্পেন সরকারের প্রতিনিধি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এ গণপ্রবেশের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৪১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের শুরু থেকে বুধবার পর্যন্ত আরও ৩০ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফলে ২০২৬ সালে সেউতার উপকূলে মরক্কো থেকে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭১ জনে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশই সাগরপথে সীমান্ত অতিক্রমের সময় ডুবে মারা গেছেন।
শুক্রবার স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে হুয়ান হেসুস ভিভাস বলেন, এত বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমন সামাল দেওয়া সেউতার পক্ষে সম্ভব নয়। তাঁর ভাষায়, “এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অসম্ভব।” মাত্র ৮০ হাজারের কিছু বেশি জনসংখ্যার এই শহরে এক দিনে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের প্রবেশ স্থানীয় অবকাঠামো, আশ্রয়ব্যবস্থা এবং জরুরি সেবার ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করেছে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রবেশকারী অভিবাসীদের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার ইতোমধ্যে স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছেন। সেউতায় পৌঁছানো অনেকেই খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়ের সংকটে পড়ে এবং চরম ক্লান্তির কারণে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এ পরিস্থিতির জন্য মানবপাচারকারী চক্রগুলোকে দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এসব চক্র ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে হাজারো মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সীমান্ত অতিক্রমে উৎসাহিত করেছে। তিনি ঘটনাটিকে স্পেনের সার্বভৌমত্বের জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এবং মানবপাচারকারী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পেন ও মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে। ইউরোপীয় কমিশনও সেউতার চলমান সংকট মোকাবিলায় স্পেনকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।