যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে একটি মালবাহী ট্রেনের সিল করা কনটেইনারে আটকা পড়ে সাত অভিবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মানবপাচার চক্রের ১১ জনের বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে কনটেইনারের ভেতরে আটকা পড়ে তারা হিটস্ট্রোকে মারা যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মৃতদের মধ্যে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে। ছয়জনের মরদেহ লারেডোর ইউনিয়ন প্যাসিফিক রেলইয়ার্ডে একটি কনটেইনার থেকে উদ্ধার করা হয়। আরেকজনকে সান আন্তোনিওর রেললাইনের পাশে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটর জাস্টিন আর. সিমন্স বলেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ বা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ছাড়া একটি সিল করা কনটেইনারে বেঁচে থাকা অত্যন্ত কঠিন। তিনি আরও জানান, নিহতদের একজন মৃত্যুর আগে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে সাহায্য চেয়েছিলেন।
নিহতদের মধ্যে চারজন এল সালভাদরের এবং তিনজন হন্ডুরাসের নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তারা প্রত্যেকে দেড় হাজার থেকে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ দিয়েছিলেন।
তদন্তে জানা গেছে, গত ৯ মে বিকেলে পাচারকারীরা ডেল রিও এলাকায় তালা কেটে একটি মালবাহী ট্রেনের কনটেইনার খুলে অভিবাসীদের ভেতরে তুলে দেয়। তখন বাইরের তাপমাত্রা ছিল ৮৮ থেকে ৯২ ডিগ্রি ফারেনহাইট। কনটেইনারে কোনো জানালা, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা বা ভেতর থেকে বের হওয়ার উপায় ছিল না।
ট্রেনটি প্রায় ১৫০ মাইল পথ অতিক্রম করে সান আন্তোনিও পৌঁছায়। সেখানে পাচারকারীরা কনটেইনার খুললে একজন অচেতন অবস্থায় বাইরে পড়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, তাকে মৃত ভেবে রেললাইনের পাশে ফেলে রেখে তারা আবার কনটেইনার বন্ধ করে দেয়। পরে ট্রেনটি লারেডোর দিকে চলে যায়।
পরদিন ইউনিয়ন প্যাসিফিকের এক কর্মী কনটেইনারের বাইরে একটি পা দেখতে পেয়ে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর কনটেইনার খুলে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় মেডিকেল পরীক্ষক প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গরমে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে সন্দেহ করছেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ১১ জনের মধ্যে নয়জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দুজন এখনও পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে অভিবাসী পরিবহনের ষড়যন্ত্র এবং সেই অপরাধের ফলে মৃত্যুর ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, সীমান্ত এলাকায় মালবাহী ট্রেন ব্যবহার করে মানবপাচার বর্তমানে বড় উদ্বেগের বিষয়। কারণ, সীমান্ত পার হওয়ার আগে ট্রেনগুলো প্রায়ই ধীরগতিতে চলে বা কিছু সময়ের জন্য থামে, যা পাচারকারীদের জন্য অবৈধভাবে মানুষ ওঠানো বা লুকিয়ে রাখার সুযোগ তৈরি করে।