বাবার দাফন শেষ করেছেন বিকেলে। রাতেই ফিরে গেছেন এটিএম বুথের ডিউটিতে। আর পরদিন সকালে বসতে হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষায়। বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইকনের জীবনসংগ্রামের এই হৃদয়স্পর্শী গল্প প্রকাশ করেছে জাতীয় দৈনিক কালবেলা।
পত্রিকাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ মেডিকেল স্কুল রোড এলাকার বাসিন্দা ইকন সম্প্রতি তার বাবা ইসরাফিল দাড়িয়াকে হারিয়েছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুকালে ইসরাফিল দাড়িয়া স্ত্রী ও দুই ছেলে রেখে গেছেন। পরিবারের বড় ছেলে ইমন সড়ক দুর্ঘটনার পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ফলে পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে ছোট ছেলে ইকনের ওপর।
ইকন বাগেরহাট খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী এবং চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। পরিবারের ব্যয় বহনে সহায়তা করতে তিনি বাগেরহাট শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে রাতের শিফটে খণ্ডকালীন চাকরি করেন।
কালবেলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাবার দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরও ইকন দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াননি। মঙ্গলবার রাতেই তিনি কর্মস্থলে যোগ দেন এবং রাত ১০টার দিকেও তাকে ডিউটিতে দেখা যায়। পরদিন ২৩ জুলাই তার ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের এইচএসসি পরীক্ষা ছিল।
বাবাকে হারানোর শোক, অসুস্থ বড় ভাইয়ের দায়িত্ব, সংসারের চাপ এবং শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়—সব মিলিয়ে ইকনের সংগ্রাম অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। স্থানীয়রাও তার পরিবারের জন্য দোয়া কামনা করেছেন।
সূত্র: কালবেলা-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন।