জুলাই বিপ্লবে রেমিট্যান্স শাটডাউনের গুরুত্ব এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা নিয়ে মালয়েশিয়ায় এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯ জুলাই রোববার বিকেলে এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়া চ্যাপ্টারের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রেমিট্যান্স শাটডাউন ছিল দেশের আন্দোলনের প্রতি প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ সংহতি ও প্রতিবাদের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গণঅভ্যুত্থনের প্রতি সমর্থন জোরদারে ভূমিকা রাখে।
পবিত্র আল-কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন লোকমান হাকিম। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়া চ্যাপ্টারের কুয়ালালামপুর আঞ্চলিক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ড. আবুল বাশার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়া চ্যাপ্টারের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ এনামুল হক। বিশেষ বক্তা ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব আলম রওশন। এছাড়া বক্তব্য দেন এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রীয় সদস্য আকাশ আলমগীর, সেলাংগর আঞ্চলিক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল এবং কুয়ালালামপুর আঞ্চলিক কমিটির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস বিথী।
অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধা আব্দুল আহাদ সরাসরি উপস্থিত থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করেন। ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন শহীদ তাহমিদের মা, শহীদ ইমনের ভাই, জুলাই যোদ্ধা কানিজ ফাতেমা, আহত জুলাই যোদ্ধা মোহাম্মদ ওমর ফারুক এবং শহীদ সাজ্জাদের বাবা।
আলোচনায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং আহত যোদ্ধাদের অবদানের যথাযথ মূল্যায়নের আহ্বান জানান। তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহত যোদ্ধাদের অবদান সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে দেশে-বিদেশে গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
আহত জুলাই যোদ্ধা মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, আন্দোলনে আহত হওয়ার পরও তিনি এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে কোনো ধরনের সহায়তা পাননি। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ কামনা করেন।
জবাবে এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়ার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হবে এবং আহত যোদ্ধার প্রাপ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে।
মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগঠনের নেতাকর্মী, সদস্য এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে আলোচনা সভা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।