রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ান এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে মালয়েশিয়া। এ লক্ষ্যে দেশটি আরও কৌশলগত ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে।
মালয়েশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক লুকানিসমান আওয়াং সাউনি বলেছেন, মিয়ানমার সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারে মালয়েশিয়া ধারাবাহিকভাবে আসিয়ানের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আসছে। একই সঙ্গে দেশটিতে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
মঙ্গলবার পার্লামেন্টে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাসহ শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের সংকট কোনো একক দেশের সমস্যা নয়। এটি অনিয়মিত অভিবাসন, মানবপাচার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ নানা আন্তঃসীমান্ত চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। তাই এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার অবস্থান মানবিক দায়বদ্ধতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে তিনি স্বীকার করেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান অর্জনে বিদ্যমান সহযোগিতার কার্যকারিতা এখনো সীমিত। এর অন্যতম কারণ, আসিয়ানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি এবং সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া। ফলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে জোটটির সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইউএনএইচসিআরের দায়িত্ব মূলত শরণার্থীদের সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা প্রদান পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ সমাধানের জন্য সংস্থাটির কোনো ম্যান্ডেট নেই। ফলে তাদের কার্যক্রম মানবাধিকার সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে মালয়েশিয়া আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগির কার্যকর ব্যবস্থা জোরদার এবং এমন রাজনৈতিক সমাধানকে উৎসাহিত করতে চায়, যাতে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেন।
তিনি বলেন, এ উদ্যোগ শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করবে না, বরং আন্তর্জাতিক পরিসরে শান্তি, নিরাপত্তা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি মালয়েশিয়ার অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করবে।