স্পেনে চলতি বছরের জুন মাসে তীব্র তাপদাহে রেকর্ড ১,০২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দৈনিক মৃত্যুহার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা MoMo-এর প্রাথমিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত ২১ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত চলা পাঁচ দিনের তাপপ্রবাহেই ৩৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আবহাওয়া সংস্থা AEMET জানিয়েছে, জুন মাসে দেশের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। ফলে এটি স্পেনের ইতিহাসে দ্বিতীয় উষ্ণতম জুন হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। তাপপ্রবাহের সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি উঠে যায়। ২৩ জুন সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে প্রায় ৩ কোটি ৫৭ লাখ মানুষ, অর্থাৎ দেশের প্রায় ৭৩ শতাংশ জনগণ, তাপজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ছিলেন। এর মধ্যে ৩৮ শতাংশ উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে পড়েন।
গত ১৫ মে থেকে স্পেনে গরমজনিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা পরিকল্পনা চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ১,১৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই ৬৫ বছরের বেশি বয়সী, আর তাদের মধ্যে ৭২০ জনের বয়স ৮৫ বছরেরও বেশি। এছাড়া মৃতদের মধ্যে ৬২৪ জন নারী এবং ৪০৫ জন পুরুষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, মৃত্যুর ৯৭ শতাংশেরও বেশি সরাসরি হিটস্ট্রোকে নয়; বরং অতিরিক্ত গরমে আগে থেকেই থাকা হৃদরোগ, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা জটিল আকার ধারণ করায় এসব মৃত্যু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্পেনে তাপপ্রবাহের সংখ্যা ও তীব্রতা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ১৯৭৫ সালের পর জুন মাসে মোট ১২টি তাপপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে, যার অর্ধেকই ঘটেছে গত এক দশকে। এছাড়া ১৯৬১ সালের পর থেকে সবচেয়ে উষ্ণ ১৩টি জুন মাসই ২১শ শতকে দেখা গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এ ধরনের চরম আবহাওয়া আরও ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠছে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন।
তথ্যসূত্র: স্পেনের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (AEMET)