ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত জয় যেন নেদারল্যান্ডসের হাতের মুঠোয়ই ছিল। কিন্তু যোগ করা সময়ে ইসা দিওপের দুর্দান্ত হেডে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। এরপর অতিরিক্ত সময়েও গোলের দেখা না মেলায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই স্নায়ুর লড়াইয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করে মরক্কো। আর নাটকীয় এক পরাজয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় নেদারল্যান্ডসকে।
মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ভরপুর। বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশ পর্বের এই লড়াইয়ে দুই দলই জয় তুলে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে। তবে শেষ পর্যন্ত ভাগ্য নির্ধারণ করতে হয় টাইব্রেকারে।
প্রথমার্ধে গোল না হলেও একের পর এক আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। ১৯তম মিনিটে আশরাফ হাকিমির কর্নার থেকে নেইল এল আইনাউইয়ের হেড দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন নেদারল্যান্ডসের গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুখেন। মাত্র দুই মিনিট পর আবারও গুরুত্বপূর্ণ একটি সেভ করে দলকে বিপদমুক্ত করেন তিনি।
প্রথমার্ধের শেষদিকে পাল্টা চাপ তৈরি করে নেদারল্যান্ডসও। ৪৪তম মিনিটে ক্রিসেনসিও সামারভিলের পাস থেকে মিকি ফন দে ফেনের নেওয়া শট অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। অন্যদিকে যোগ করা সময়ে আশরাফ হাকিমির পাস থেকে একেবারে ছয় গজের মধ্যে থেকেও নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন ইসমাইল সাইবারি। সেই সুযোগ হাতছাড়া করে হতাশায় মাথায় হাত দেন তিনি। ফলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
বিরতির পর ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে গোল করে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ডাচদের জয়ও নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে দারুণ গতিতে উঠে আসা শেমসেদ্দিন তালবির নিখুঁত ক্রসে হেড করে সমতা ফেরান ডিফেন্ডার ইসা দিওপ। শেষ মুহূর্তের সেই গোল মরক্কোকে নতুন করে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে এবং লড়াই গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়েও দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করে। ৯৮তম মিনিটে তালবির পাস থেকে গোলের সামনে বল পেয়ে যান ইসমাইল সাইবারি। তবে আবারও দলের রক্ষাকর্তা হয়ে ওঠেন বার্ট ভারব্রুখেন। বাঁ পা বাড়িয়ে নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দেন তিনি। অন্য প্রান্তে নেদারল্যান্ডসও কয়েকটি আক্রমণ শানালেও ইয়াসিন বুনুর দৃঢ়তা এবং মরক্কোর রক্ষণভাগের শৃঙ্খলিত পারফরম্যান্সে গোলের দেখা পায়নি।
নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ১-১ সমতায় শেষ হওয়ায় ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় টাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ুচাপের কঠিন পরীক্ষায় বেশি সফলতা দেখায় মরক্কো। ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয়। অন্যদিকে লড়াই করেও টাইব্রেকারের হতাশা নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয় নেদারল্যান্ডসের।