পর্যটন খাতে ২০৪০ সালের মধ্যে ২ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তরে তিনি এ তথ্য জানান।
কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের পর্যটন শিল্পে বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পর্যাপ্ত ব্র্যান্ডিংয়ের অভাবে খাতটি প্রত্যাশিত গতিতে এগোতে পারেনি। এ অবস্থায় পর্যটন খাতের প্রচার, বিপণন ও সংশ্লিষ্ট জনবলের দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড বিদেশি পর্যটন মেলায় অংশগ্রহণ, রোড শো, বিটুবি (বিজনেস টু বিজনেস) সভা, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং বিদেশি ট্যুর অপারেটর ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের নিয়ে পরিচিতিমূলক ভ্রমণের আয়োজন করছে।
পর্যটন খাতের প্রচারে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ইতোমধ্যে ৫০০টির বেশি অডিও-ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট তৈরি করেছে। পাশাপাশি ২৮টি থিমভিত্তিক ডকুমেন্টারি এবং বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ নিয়ে ভিডিওচিত্র নির্মাণ করা হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচার করা হচ্ছে।
বিদেশে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরতে দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলোর মাধ্যমে লিফলেট, ব্রোশিউর, পর্যটন মানচিত্র ও অন্যান্য প্রচারসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, পর্যটন ও সেবা খাতভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে ‘ন্যাশনাল ট্যুরিজম হিউম্যান ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি (২০২১-২০৩০)’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি প্রতিষ্ঠা করে হোটেল ব্যবস্থাপনা, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, ট্রাভেল ও ট্যুরিজম, টিকিটিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করতে ট্যুর গাইডদের বিদেশি ভাষা ও সেবার মান উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, হোটেল কর্মী, ট্যুরিস্ট পুলিশ, ক্রুজ শিপ কর্মী ও কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটন সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে।
আফরোজা খানম বলেন, পর্যটন মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৪০ সালের মধ্যে ২ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার পর্যটন ও সেবা খাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।