বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনসহ সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। এসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে দলীয় প্রতীক ছাড়া সম্পূর্ণ নির্দলীয় পদ্ধতিতে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার বাতিল করে নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে নতুন আচরণবিধি ও নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। একইসঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করা নতুন আচরণবিধিকে ভিত্তি হিসেবে ধরে পরবর্তীতে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বিধিমালা চূড়ান্ত করা হবে। খসড়া বিধিমালা অনুমোদনের জন্য শিগগিরই কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তা আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।
নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, নাগরিক প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমের মতামত গ্রহণেরও উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে লিখিত প্রস্তাব ও সুপারিশ সংগ্রহ করে একটি সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্দলীয় নির্বাচনে অতিরিক্ত সংখ্যক প্রার্থী অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে কমিশন প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয়েও চিন্তাভাবনা করছে। কমিশনের মতে, এতে যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে এবং নির্বাচনী পরিবেশ সুশৃঙ্খল থাকবে।
ইসি জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আধুনিক প্রযুক্তি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং শক্তিশালী প্রশাসনিক তদারকির ব্যবস্থা থাকবে। এতে কালো টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাব কমবে এবং ভোটাররা স্বাধীনভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচন করতে পারবেন।
আইন অনুযায়ী, নির্বাচনের অন্তত ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। এজন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের আনুষ্ঠানিক চাহিদাপত্র পাওয়ার পর কমিশন তফসিল ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু করবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী অক্টোবর মাস থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পূর্ণ নির্দলীয় করার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তৃণমূল রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাব কমে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যক্তির যোগ্যতা, সততা ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ আরও বাড়বে।