তারল্য সংকট কাটিয়ে উঠতে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশকে আরও ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিশেষ ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার ইসলামী ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
এর আগে গতকাল রোববারও ব্যাংকটিকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দেওয়ার কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। ১০ হাজার কোটি টাকা চাওয়ার বিপরীতে প্রাথমিকভাবে এই অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছে ব্যাংকটিকে। চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনে আমানতকারীদের নগদ টাকা উত্তোলনের চাপ সামাল দিতেই মূলত এই বিশেষ ধার দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার কথা জানিয়ে গভর্নর প্রয়োজনে নগদ সহায়তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত ১ জুন থেকে ৯ জুন পর্যন্ত ৯ দিনে ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা আমানত তুলে নিয়েছেন গ্রাহকরা। ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ৭ জুন পর্যন্ত আমানত কমেছে ৪ হাজার ২০৪ কোটি টাকা এবং পরবর্তী দুই দিনে আরও প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়। এতে কয়েকটি শাখা ও এটিএম বুথে নগদ অর্থের তীব্র চাপ তৈরি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আজ বিকেলে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। বৈঠকে ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব), দুজন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ছয়জন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে রাতে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করে বোর্ডের সার্বিক দায়িত্ব পালন ও যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে নিযুক্ত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ও ৪৭(৩) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং ব্যাংক ও আমানতকারীদের স্বার্থে এই পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করা হয়েছে। একই সাথে প্রয়োজনে পরবর্তীতে ব্যাংকটিকে আরও সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র।