নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা-এ পূর্ববিরোধের জেরে এক নারীকে প্রকাশ্যে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা মো. সফিকের বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন-এর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরলক্ষী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার তাসলিমা আক্তার খুকি (৩৫) একই গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. খলিল ড্রাইভারের স্ত্রী। অভিযুক্ত মো. সফিক (৩৮) স্থানীয় ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি একই এলাকার মনতারাগো বাড়ির সামছুদ্দিন মোল্লার ছেলে।
ভুক্তভোগী খুকির অভিযোগ, তার স্বামী গত দুই মাস ধরে সফিকের অধীনে কাজ করলেও কোনো বেতন পাননি। পাওনা টাকা চাইতে গেলে সফিক দাবি করেন, তার স্বামী মাদক সেবন করে সব টাকা খরচ করেছেন। এমনকি ঈদুল আজহার সময়ও বেতন না পাওয়ায় পরিবারকে কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। পরে স্বামীকে সফিকের কাজে যেতে নিষেধ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সফিক।
তিনি আরও জানান, শনিবার সকালে বাড়ির পাশের নদীতে বসানো একটি রিং জাল সফিক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তারা বাধা দেন। এ সময় সফিক প্লাস্টিকের পাইপের ভেতরে লোহার রড ঢুকিয়ে তার স্বামীকে মারধর করেন। পরে বেলা ১১টার দিকে সফিক তার ভগ্নিপতি নূরে মাওলাকে সঙ্গে নিয়ে এসে ফের হামলা চালান। স্বামীকে রক্ষা করতে গেলে খুকিও মারধরের শিকার হন।
খুকির আরও অভিযোগ, সফিক তার পরিচালিত প্রকল্পে মাদকের আসর বসান এবং তার স্বামীকে দিয়ে অবৈধ মাদক ব্যবসা পরিচালনা করাতেন।
অন্যদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সফিক। তার দাবি, খুকির পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাদের ভালো সম্পর্ক ছিল। কয়েক দিন আগে খুকির স্বামী তার বোনের ঘরের দরজা খোলার চেষ্টা করেন এবং মাছ চুরির ঘটনাও ঘটান। শনিবার সকালে জাল নিয়ে আসার পথে খুকি ও তার স্বামী উল্টো তার ওপর হামলা চালিয়ে নাক ফাটিয়ে দেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশ-এর অধীন চরজব্বর থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ লুৎফর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তের দাবি উঠেছে।