তিন দেশে আয়োজিত এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও হচ্ছে তিন ভিন্ন ভেন্যুতে। এরই অংশ হিসেবে শনিবার কানাডায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী আয়োজনে পারফর্ম করে আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংগীতশিল্পী সঞ্জয়। বিশ্বখ্যাত তারকাদের সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচ শুরুর আগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পী হিসেবে পরিবেশনা করেন সঞ্জয়। তার সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন বলিউড তারকা নোরা ফাতেহি এবং ফরাসি হিপ-হপ শিল্পী ভেভেড্রিম। তারা পরিবেশন করেন ফিফার আনুষ্ঠানিক গান ‘সির সির’।
গত ৮ জুন ফিফার ইউটিউব চ্যানেলে গানটি প্রকাশের পর থেকেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মাত্র চার দিনের মধ্যেই ভিডিওটির দর্শকসংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩ কোটি ৮৩ লাখ।
অনুষ্ঠানে আরও পরিবেশনা করেন কানাডার জনপ্রিয় শিল্পী মাইকেল বুবলে, অ্যালানিস মরিসেট, আলিসিয়া কারা, জেসি রেয়েজ এবং ফিলিস্তিনি গায়িকা এলিয়ানা। উদ্বোধনী আয়োজনের শুরুতে কানাডার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গান পরিবেশন করেন আদিবাসী বংশোদ্ভূত গায়ক উইলিয়াম প্রিন্স।
তবে পুরো আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন সঞ্জয়। তার পরিবেশনায় দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। বিশেষভাবে তৈরি পোশাকেও তিনি তুলে ধরেন বাংলাদেশের পরিচয়। তার জ্যাকেটের ডান হাতায় সূচিকর্মের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয় বাংলাদেশের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় ফুল শাপলা এবং জাতীয় পতাকার প্রতীকী নকশা।
পরিবেশনার সময় বারবার নিজের পোশাকের ওই অংশের দিকে ইঙ্গিত করে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করতে দেখা যায় তাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই মুহূর্তগুলো ইতোমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
সঞ্জয়ের জন্ম -এ। শৈশবের একটি বড় অংশ কেটেছে -এ। পরে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। বর্তমানে -ভিত্তিক এই শিল্পী বাংলা সংগীতের উপাদানকে আধুনিক ইলেকট্রনিক সুরের সঙ্গে মিশিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন।
দেশের সংগীতাঙ্গনেও রয়েছে তার সক্রিয় উপস্থিতি। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ২০২৫ সালের থিম সংগীতে কাজ করেছেন তিনি। এছাড়া , , এবং -এর সঙ্গে একাধিক গানে কাজ করেছেন তিনি।
২০২৪ সালে প্রকাশিত হাবিব, সঞ্জয় ও মুজার গান ‘একলা দুনিয়া’ পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। একইভাবে তাহসান, সঞ্জয় ও মুজার ‘ভুলে যাব’ এবং জেফারের সঙ্গে করা ‘আড়ালে হারালে’ গানগুলোও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে সঞ্জয়ের এই উপস্থিতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার এক গর্বিত অধ্যায় হিসেবেই দেখছেন অনেকে।