যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে ইতোমধ্যে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে আয়োজিত হতে যাওয়া এই আসরে ম্যাচ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪-এ। এর ফলে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আয়ের পথে রয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের চার বছরের আর্থিক চক্রে ফিফার মোট আয় প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। যা আগের বিশ্বকাপ চক্রের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল আয়ের বড় একটি অংশ আসছে টিকিট বিক্রি, সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে। বিশেষ করে এবার টিকিট বিক্রিতে ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করায় জনপ্রিয় ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম কয়েকগুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
শুধু টিকিট নয়, বিশ্বকাপ ঘিরে ভ্রমণ, আবাসন এবং স্টেডিয়াম সংশ্লিষ্ট খরচও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ম্যাচের দিনগুলোতে পরিবহন ভাড়া ও হোটেল খরচ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় দর্শকদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।
তবে অর্থনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি পরিবেশগত উদ্বেগও সামনে আসছে। গবেষকদের আশঙ্কা, তিন দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ভেন্যুগুলোতে যাতায়াতের কারণে এবারের বিশ্বকাপ থেকে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ অতীতের যেকোনো আসরের চেয়ে বেশি হতে পারে। বিপুল সংখ্যক বিমান ভ্রমণ এবং দীর্ঘ দূরত্বের যাতায়াত পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে খেলোয়াড়দের ওপরও বাড়তি চাপ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ক্লাব ফুটবলের ব্যস্ত মৌসুম শেষ হওয়ার পরপরই বিশ্বকাপে অংশ নিতে হওয়ায় অনেক ফুটবলার ক্লান্তি ও ইনজুরির ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি জাতীয় দল গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের চোটজনিত কারণে হারিয়েছে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ একদিকে যেমন বাণিজ্যিক সাফল্যের নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে, অন্যদিকে দর্শকদের ব্যয়, খেলোয়াড়দের শারীরিক চাপ এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে নতুন প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।
তথ্যসুত্র: আলজাজিরা, বিইনস্পোর্টস, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।