আনন্দঘন বিয়ের আসর মুহূর্তের মধ্যে রূপ নিল রণক্ষেত্রে। আর এর নেপথ্যে কোনো পারিবারিক কলহ বা যৌতুকের বিবাদ ছিল না; বরং ‘হিজড়া’ সেজে বকশিশ আদায় করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন একদল প্রতারক যুবক। ভারতের মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়া জেলার দারবাই গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।
দারবাই গ্রামের একটি বিয়েবাড়িতে প্রথা অনুযায়ী নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করতে এবং বকশিশ নিতে হাজির হন কয়েকজন হিজড়া। তবে আশীর্বাদের চেয়ে তাদের নজর ছিল মোটা অঙ্কের টাকার দিকে। অস্বাভাবিকভাবে অতিরিক্ত টাকা দাবি করায় এবং তাদের আচরণে সন্দেহ হওয়ায় বিয়েবাড়ির লোকজনের মনে খটকা লাগে।
চতুরতার আশ্রয় নিয়ে কনেপক্ষ সরাসরি কোনো দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে, আসল সত্যিটা যাচাই করতে স্থানীয় হিজড়া সম্প্রদায়ের প্রকৃত সদস্যদের খবর দেন।
খবর পেয়েই আসল হিজড়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন। তারা যখন ওই যুবকদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের চালচলন পরীক্ষা করা শুরু করেন, তখনই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। জানা যায়, হিজড়াদের ছদ্মবেশে থাকা ওই ব্যক্তিরা আসলে সাধারণ যুবক, যারা কেবল সহজ উপায়ে অর্থ উপার্জনের জন্য এই পথ বেছে নিয়েছিল।
ছদ্মবেশ ফাঁস হতেই বিয়েবাড়ির লোকজনের ক্ষোভ ফেটে পড়ে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ জনতা এবং আসল হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা মিলে ওই নকল যুবকদের ওপর চড়াও হন। হাতাহাতি, জামাকাপড় টানাটানি থেকে শুরু করে গণধোলাইয়ের দৃশ্যও ক্যামেরায় ধরা পড়ে। উপস্থিত অনেকেই পুরো ঘটনাটি মোবাইলে ধারণ করেন।