কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা আদালত পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
আদালতের আদেশে যাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, তাঁরা হলেন সাবেক সেনা সদস্য সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান (জাহিদ) এবং সৈনিক শাহীন আলম। মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তাঁরা কুমিল্লা সেনানিবাসে বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত ছিলেন।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম আদালতে আবেদন করে দুই সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির অনুমতি চান। একই আবেদনে তদন্তের স্বার্থে সেনাবাহিনীর কাছে থাকা সম্ভাব্য তথ্য বা নথিপত্র তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সরবরাহের অনুরোধও জানানো হয়।
এদিকে তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, মামলার নির্ধারিত তারিখে আদালত কী নির্দেশনা দিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি তখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত ছিলেন না। আদালতের আদেশের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের মার্চ মাসে কুমিল্লা সেনানিবাসসংলগ্ন এলাকায় সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে মামলাটি দেশের অন্যতম আলোচিত হত্যা মামলায় পরিণত হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে এর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।